তেজস্বী সূর্যকে সরিয়ে বড় চমক বিজেপির! যুব মোর্চার নতুন জাতীয় সভাপতি কে হলেন?

জেন-জি’ বা তরুণ প্রজন্মের দাবি-দাওয়া ও প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিশেষ নজর কেড়েছে। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড়সড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। লোকসভা সাংসদ তেজস্বী সূর্যকে ‘ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা’-র (BJYM) জাতীয় সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে ভদোদরার তরুণ সাংসদ হেমং যোশীর হাতে। দেশের তরুণ প্রজন্মের মন জয় করতে রাজনৈতিক দলগুলো যখন নানা নতুন কৌশল গ্রহণ করছে, ঠিক সেই সময়ে যুব মোর্চার শীর্ষ পদে এই বদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার বিকেলে বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে এই রদবদলের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তেজস্বী সূর্য নিজের দীর্ঘ যাত্রার কথা স্মরণ করে লেখেন, আজ থেকে ১৪ বছর আগে শহরের ইউনিটের সাধারণ কর্মী হিসেবে তিনি যুব মোর্চায় তাঁর পথচলা শুরু করেছিলেন। সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পদের মতো গুরুদায়িত্ব পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন, তা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, পদ বা উপদায় পরিবর্তন হলেও একবার যুব মোর্চার সদস্য হলে আজীবন সেই পরিবারেই থাকতে হয়।
কে এই হেমং যোশী?
১৯৯১ সালের ৩১ জানুয়ারি গুজরাটের পোরবন্দরে জন্ম নেওয়া হেমং যোশী পেশাগতভাবে একজন তরুণ আইনপ্রণেতা। জনসেবার ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক যাত্রাপথ ভদোদরার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ২০০৮ সালে ফিজিওথেরাপিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভদোদরায় এসে তিনি সেখানকার মর্যাদাপূর্ণ মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং দীর্ঘ সময় অ্যাকাডেমিক ও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নাগরিক প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর কাজ শুরু হয়। ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্কুল কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ শুরু করার পর গত দুই বছরে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করে এবং তিনি জয়ী হন। এরপর তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নিষ্ঠার কথা মাথায় রেখে দল তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়।
কেন হেমং যোশীকেই বেছে নিল হাইকম্যান্ড?
হেমং জোশিকে এই শীর্ষ পদে বসানোর পেছনে একাধিক কৌশলগত কারণ রয়েছে। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজের কাজের পরিধি বিস্তার করেছেন। গুজরাটে যুব শাখার প্রধান থাকাকালীন তিনি বেশ কিছু অভিনব ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেছিলেন, যা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও বিশেষ নজর কাড়ে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এমন একজন তরুণ নেতার সন্ধান করছিল যিনি সুশিক্ষিত, মৃদুভাষী, প্রচারবিমুখ এবং বিতর্কমুক্ত হন। হেমং জোশি এই সমস্ত মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
পাশাপাশি, গুজরাটি, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় দারুণ দখল থাকার কারণে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজেই সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। ভদোদরায় একটি “ডিজিটাল এমপি অফিস” তৈরির তাঁর উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। এখন জাতীয় স্তরে এই নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর, তৃণমূল স্তরে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই হবে হেমং যোশীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।