বিজেপির অন্দরে বড়সড় ‘রিসাফেল’! নতুন মুখের ভিড়ে কোন সমীকরণ খুঁজছে জাতীয় রাজনীতি?

বিজেপির অন্দরে বড়সড় রদবদল ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে অমিত মালব্যের সরে যাওয়া এবং অন্যদিকে সর্বভারতীয় মুখপাত্র শেহজ়াদ পুণাওয়ালার দলত্যাগ—সব মিলিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক রাজনৈতিক মহলের জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনগুলিকে কি এখনই এক সুতোয় বাঁধা সম্ভব? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক এই রদবদল যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।

সোমবার দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। এর পরেই জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি রাজ্য ছেড়ে দিল্লির জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন। যদিও ফড়ণবীশ নিজে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে আপাতত তাঁর এমন কোনও পরিকল্পনা নেই। তিনি মহারাষ্ট্রের দায়িত্বেই থাকছেন এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবেন। তাঁর এই দিল্লি সফর মূলত পরিকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার জন্যই বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থামছে না।

এদিকে, বিজেপির নতুন জাতীয় টিম ঘোষণার দিনই অমিত মালব্যকে তাঁর আগের আইটি এবং ডিজিটাল প্রচারের দায়িত্বে রাখা হয়নি। তাঁর জায়গায় এসেছেন দীপক মাসকে। ভোটের প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার করা বিজেপির এই পদক্ষেপে ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে। যদিও অমিত মালব্যের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

এই ওলটপালটের আবহে সোমবারই বিজেপি ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন শেহজ়াদ পুণাওয়ালা। দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে তিনি জানান যে ব্যক্তিগত ও আর্থিক কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সব মিলিয়ে, বিজেপির নতুন জাতীয় টিমে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের ভারসাম্যের খোঁজে দলটিকে কতটা কৌশল বদলাতে হচ্ছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *