নিহতদের পরিজনদের দেওয়া হবে ২ লক্ষ টাকা, তারাপীঠ অগ্নিকান্ডে ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

শ্রাবণের শেষ সোমবারের ভোরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল বীরভূমের তারাপীঠ। এলাকার একটি হোটেলে আচমকা লাগা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত জন পুণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই রাতেই শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রিয়জনহারা পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের উদ্ধারে এবং সব ধরনের সাহায্যে পাশে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রাবণের শেষ সোমবার উপলক্ষে এদিন সকাল থেকেই তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের ঢল নেমেছিল। বহু দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা মন্দিরের আশপাশের বিভিন্ন হোটেল ও লজে রাত কাটাচ্ছিলেন। সোমবার ভোররাতে তারাপীঠ থানার ঠিক কাছেই একটি হোটেলে আচমকাই আগুন লেগে যায়। গভীর রাত হওয়ায় সে সময় হোটেলের বেশিরভাগ অতিথিই ঘুমাচ্ছিলেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়।

খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ। হোটেলের ভেতরে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আগুনের গ্রাসে ইতিমধ্যেই সাত জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট বা হোটেলের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় কোনও গোলমালের জেরে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। শ্রাবণের শেষ সোমবারের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ও দমকলের পক্ষ থেকে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *