বাড়িতে বজরংবলীর ছবি ঝুলিয়েছেন? এই ভুলগুলি করছেন না তো! চরম বিপদ ডেকে আনছেন অজান্তেই

সংকটমোচন বজরংবলীর আশীর্বাদ পেতে অনেকেই বাড়িতে তাঁর ছবি বা মূর্তি রাখেন। তবে বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়ির যেখানে-সেখানে বজরংবলীর ছবি রাখা একেবারেই উচিত নয়। বাস্তুর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সঠিক দিকে ছবি স্থাপন না করলে উপকারের বদলে বড় ধরণের ক্ষতি বা বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই ঘরে পজিটিভিটি বজায় রাখতে এবং জীবনের নানা বাধা কাটাতে কোন কোন নিয়ম মেনে চলা জরুরি, তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

বাস্তুমতে বজরংবলীর ছবি কোন দিকে রাখবেন?

  • দক্ষিণ-পশ্চিম দিক: বাস্তু মতে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণটিকে শক্তির স্থান হিসেবে ধরা হয়। এই দিকে হনুমানজির পাহাড় তুলে থাকা বা লঙ্কা দহন করার ছবি লাগানো অত্যন্ত শুভ। এতে ঘরে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং শত্রুদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। বিশেষ করে যাঁদের কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি আটকে রয়েছে, তাঁদের জন্য এই দিকটি অত্যন্ত ফলদায়ক।

  • উত্তর দিক: যাঁদের সংসারে নিয়মিত আর্থিক অনটন লেগেই থাকে, তাঁরা বাড়ির উত্তর দেওয়ালে বজরংবলীর ছবি রাখতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, ছবির হনুমানজির মুখ যেন দক্ষিণ দিকে থাকে। উত্তর দিকে ছবি রাখলে ধনদেবতা কুবেরের কৃপা লাভ করা যায়, ঋণমুক্তি ঘটে এবং ব্যবসায় উন্নতি হয়।

  • প্রধান প্রবেশদ্বার: বাড়ির মূল দরজার ঠিক সামনের দেওয়ালে বা গেটের ওপরে বজরংবলীর ছবি লাগাতে পারেন। তবে শর্ত একটাই, ছবিতে হনুমানজি যেন বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এটি ঘরের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে, যা অশুভ দৃষ্টি বা নেতিবাচক শক্তিকে বাড়ির অন্দরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

কোন ছবি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী?

  • পাহাড় হাতে বজরংবলী: এই ছবি অসাধ্য সাধন করতে সাহায্য করে এবং মনোবল বাড়ায়।

  • রাম-সীতার চরণে বসা হনুমান: এই ছবি ভক্তি ও আনুগত্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সংসারে শান্তি ফিরিয়ে আনে।

  • সিঁদুর মাখা বজরংবলী: প্রতি মঙ্গলবার এই রূপের পুজো করলে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

যে ৪টি ভুল ভুলেও করবেন না

১. বাথরুম, রান্নাঘর বা সিঁড়ির নীচের দেওয়ালে কখনও বজরংবলীর ছবি রাখবেন না। এতে দেবতার অবমাননা করা হয়। ২. শোয়ার ঘরে বিছানার ঠিক সামনের দেওয়ালে বা পায়ের দিকে এই ছবি টানাবেন না, এর ফলে ঘুমের সমস্যা ও দুঃস্বপ্ন দেখা দিতে পারে। ৩. কখনই বাড়িতে ছেঁড়া, ফাটা বা ধুলোবালি জমে থাকা ছবি রাখবেন না। মাসে অন্তত একবার ছবি ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। ৪. মূল দরজার দিকে হনুমানজির মুখ করে ছবি রাখা নিষেধ, কারণ এতে বাড়ির পজিটিভ এনার্জি বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।

পুজোর সহজ নিয়ম

প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার সকালে স্নান সেরে বজরংবলীর ছবির সামনে সিঁদুর, জুঁই ফুল ও লাড্ডু নিবেদন করুন। এরপর শুদ্ধ চিত্তে ১১ বার “ওম হং হনুমতে নমঃ” মন্ত্র জপ করুন। মনে রাখবেন, বজরংবলী ভক্তের ভয় দূর করেন এবং যেখানে सच्ची ভক্তি ও বিশ্বাস থাকে, সেখানেই তিনি বিরাজ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *