অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মা মৃত্যু রহস্যে মোড়ক উন্মোচন! সিবিআইয়ের ৬৩৬ পৃষ্ঠার চার্জশিটে উঠে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল ত্বিশা শর্মা মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষ করে আদালতে একটি বিশাল চার্জশিট দাখিল করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। দীর্ঘ ৬৩৬ পৃষ্ঠার এই চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মূলত যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং মৃত্যুর প্ররোচনা বা যৌতুকের কারণে মৃত্যুর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়।
কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ?
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মৃতার স্বামী সমর্থ সিং এবং তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিং। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৮০(২), ৮৫, ১০৮ এবং ৩(৫) ধারার পাশাপাশি ১৯৬১ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ও ৪ ধারায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত ২৫ মে থেকে মামলাটির তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর সিবিআইয়ের তৎপরতায় গত ২ জুন থেকে অভিযুক্ত দুজনেই ভোপাল সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছেন।
অন্যদিকে, মৃতার বাবা এন. শর্মা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন যে, তাঁর মেয়েকে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে খুন করা হয়েছে। এরপর সেই মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দিতেই দেহটি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ডিজিটাল প্রমাণ এবং ফরেনসিকের সাহায্য
এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে নেমে সিবিআই সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করেছে। তদন্তের স্বার্থে মৃতার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, কল রেকর্ড এবং মৃত্যুর ঠিক আগে মায়ের সঙ্গে হওয়া শেষ ফোনালাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে তদন্তকারীদের নানা কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অভিযুক্তদের। কীভাবে সম্পর্কের সূত্রপাত, ডেটিং অ্যাপের ব্যবহার, বিয়ের আগে উভয় পরিবারের সম্মতি—এমনকি জাতিগত বিষয় নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ চালান গোয়েন্দারা।
কী বলছেন শাশুড়ি গিরিবালা সিং?
অভিযুক্ত শাশুড়ি গিরিবালা সিং জেরায় দাবি করেছেন যে, বিয়ের আগেই ত্বিশার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তাঁর ছেলে সমর্থ তাঁকে জানিয়েছিল যে সে ত্বিশাকেই জীবনসঙ্গী করতে চায়। পরিবারের তরফ থেকে তাঁদের সুখের কথা ভেবেই এই বিয়েতে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। গিরিবালার দাবি, ত্বিশা একটি ব্রাহ্মণ পরিবার থেকে আসলেও তাঁদের পরিবারে কোনো জাতপাতের ভেদাভেদ ছিল না এবং পুত্রবধূ হিসেবে তাঁকে ঘরে পেয়ে তাঁরা খুশিই হয়েছিলেন। তবে তাঁর দাবি অনুযায়ী, শুরুতে ত্বিশার ব্যবহার ভালো থাকলেও পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মেজাজ ও আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল।
তদন্ত প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে হওয়ায় এখন আদালতের বিচারপর্বে এই চাঞ্চল্যকর মামলার কী মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।