‘মহিষের মতো দেখতে, কী খাও!’ বেঙ্গালুরুতে ডিউটিররত মহিলা পুলিশ অফিসারকে চরম হেনস্থা ও মারধর, গ্রেফতার ৪

বেঙ্গালুরু শহরে গত ১২ আগস্ট একটি রুটিন ট্রাফিক ডিউটি চলাকালীন ঘটে গেল ন্যাক্কারজনক ঘটনা। প্রকাশ্যে রাস্তায় কর্তব্যরত এক মহিলা সাব-ইন্সপেক্টরকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করা, কুরুচিকর মন্তব্য ও বডি-শেমিং করার অভিযোগ উঠল চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত চারজনকে চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করেছে এবং জোরকদমে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন রাস্তায় একটি বচসা থামাতে গিয়ে বিপাকে পড়েন ওই নারী পুলিশ অফিসার। তিনি লক্ষ্য করেন, তাঁর এক সহকর্মীর সঙ্গে হেমন্ত রেড্ডি নামে এক ব্যক্তি, তাঁর পরিবার এবং এক পরিচিতের তীব্র কথা কাটাকাটি চলছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং ঝামেলা মেটাতে ওই সাব-ইন্সপেক্টর এগিয়ে যান এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তবে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিজেকে আইনজীবী বলে দাবি করা হেমন্ত রেড্ডি উল্টে ওই মহিলা পুলিশ অফিসারের ওপর চড়াও হন এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু করেন।
বডি-শেমিং ও মারধর
অভিযোগ উঠেছে, উত্তপ্ত বিতর্কের সময় ওই মহিলা অফিসারকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত অশালীন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও প্রকাশ্যে বডি-শেমিং করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাস্তার মাঝেই হেমন্ত তাঁর চেহারা নিয়ে ঠাট্টা করে বলেন, “তোমাকে একদম মোষের মতো দেখতে লাগছে, কী খাও তুমি?”
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন হেমন্ত তাঁর বন্ধু রাহুলকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, রাহুল সেখানে পৌঁছতেই ওই মহিলা অফিসারের ওপর শারীরিক আক্রমণ চালায়।
পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও এফআইআর
আক্রমণ এখানেই থেমে থাকেনি। এরপর ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান হেমন্তের ভাই হর্ষিত রেড্ডি এবং তাঁদের বাবা রাধাকৃষ্ণ রেড্ডি। এফআইআর অনুযায়ী, বাবা ও ছেলেও এই হামলায় যোগ দেন এবং প্রকাশ্য রাস্তায় ওই পুলিশ অফিসারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করেন। এমনকি হেমন্ত ওই সাব-ইন্সপেক্টরের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করার হুমকিও দেন।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী অফিসার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে নড়েচড়ে বসে বেঙ্গালুরু পুলিশ। হেমন্ত রেড্ডি, হর্ষিত রেড্ডি, রাধাকৃষ্ণ রেড্ডি এবং রাহুল—এই চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান এবং অপরাধমূলক হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।