বুক করলেই ৮ মাসের অপেক্ষা! টাটার কোন সুপারহিট ইভি কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা?

ভারতীয় বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তবে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে বর্তমানে এক অদ্ভুত সমস্যার মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরস। সংস্থার বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা এতটাই বেশি যে তার বিপরীতে জোগান বা সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টাটার জনপ্রিয় ‘পাঞ্চ ইভি’ বুক করা কিছু গ্রাহককে এখন গাড়ি হাতে পেতে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যদিও সংস্থাটি ইভি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

রেকর্ড বিক্রি ও তিনগুণ চাহিদা
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শৈলেশ চন্দ্রের মতে, গত বছরের তুলনায় টাটার বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ গুণ বেড়েছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে কোম্পানিটি ৩৪,০০০-এর বেশি ইভি বিক্রি করেছে। এটি এখন পর্যন্ত কোম্পানির সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক ইভি বিক্রয় এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১২ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এই সময়ে টাটার মোট যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রির প্রায় ১৯ শতাংশ ছিল ইভি, যেখানে সিএনজি গাড়ির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এর অর্থ হলো, কোম্পানির প্রায় অর্ধেক গাড়ি এখন পেট্রোল বা ডিজেল ছাড়া বিকল্প পাওয়ারট্রেন দিয়েই বিক্রি হচ্ছে। শুধু জুন মাসেই ইভি-র পাইকারি বিক্রি ১৪,৮০০ ইউনিটে পৌঁছেছিল, যা জুলাই মাসে ১৫,০০০ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে। পুরো অর্থবর্ষে টাটা তাদের ইভি বিক্রি ৭০ শতাংশের বেশি বাড়বে বলে আশা করছে।

পাঞ্চ ইভি-র সর্বোচ্চ চাহিদা ও স্পেসিফিকেশন
এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টাটা পাঞ্চ ইভি। আরও সাশ্রয়ী মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারকে লক্ষ্য করে কোম্পানিটি নতুন ডিজাইনের এই ইভি বাজারে এনেছে। যার প্রারম্ভিক মূল্য বর্তমানে ৯.৬৯ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম)। এই মডেলের নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলো ৩০ kWh এবং ৪০ kWh ব্যাটারির বিকল্পে পাওয়া যাচ্ছে। টাটার দাবি, ৪০ kWh ভ্যারিয়েন্টটি এক চার্জে ৪৬৮ কিমি পর্যন্ত সার্টিফায়েড রেঞ্জ দিতে পারে এবং ডিসি ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করে মাত্র ২৬ মিনিটেই ব্যাটারি ২০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। গ্রাহకుల চাহিদা মেটাতে টাটা তাদের ইভি উৎপাদনের ক্ষমতা প্রতি মাসে প্রায় ৯,০০০ ইউনিট থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০-এর বেশি করেছে এবং ভবিষ্যতে এটি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রাহকদের জন্য ৮ মাসের অপেক্ষা: স্বস্তি না হতাশা?
শক্তিশালী চাহিদা টাটা কোম্পানির জন্য দারুণ সুসংবাদ হলেও, আট মাসের দীর্ঘ অপেক্ষার সময় গ্রাহকদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসে যারা পাঞ্চ ইভি বুক করছেন, তাদের গাড়ি হাতে পেতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে এই অপেক্ষার সময় নির্ভর করবে গ্রাহকের বেছে নেওয়া ভ্যারিয়েন্ট, নির্দিষ্ট শহর এবং ডেলিভারি বরাদ্দের ওপর।

এই দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে গাড়ির দাম পরিবর্তিত হতে পারে, বিদ্যমান ফাইন্যান্স অফারগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে কিংবা বাজারে নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মডেল চলে আসতে পারে। ফলে গ্রাহকদের অন্য ব্র্যান্ডের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। কারণ ইভি বাজারের এই রমরমা পরিস্থিতিতে এমজি, মাহিন্দ্রা, হুন্দাই, কিয়া এবং মারুতি সুজুকির মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোও তাদের ইলেকট্রিক গাড়ির পরিসর দ্রুত প্রসারিত করছে। প্রতিযোগিতার এই বাজারে টাটা কীভাবে গ্রাহকদের এই দীর্ঘ অপেক্ষার সমস্যা সমাধান করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *