দিল্লি আন্দোলনে যোগদান নিয়ে চরম মূল্য! বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার ৮

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনে যোগদানের জেরে চরম দাম চোকাতে হলো বাঁকুড়ার এক পরিবারকে। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) এক কর্মীর বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত বাঁকুড়ার ইন্দাস এলাকা। নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা-সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় খুনের মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন ইন্দাসের ওই তরুণ। অভিযোগ, সেই ক্ষোভ থেকেই গত বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। সে সময় ওই যুবককে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর ওপর ক্ষোভ মেটাতে বাবাকে নিশানা করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মারাত্মক আক্রমণের শিকার হন ৫২ বছর বয়সি শেখ মহম্মদ মফিক। হামলাকারীদের বেধড়ক মারধরে গুরুতর জখম হন তিনি। পরিবার সূত্রে প্রকাশ, প্রথমে তাঁকে ইন্দাস হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। ঘটনা প্রসঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সৌরভ দাস তীব্র হুশিয়ারি দিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না এবং নেপথ্যে ঠিক কী কারণ কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখতে ইন্দাস থানার পুলিশ পুরোদমে তদন্ত শুরু করেছে। শোকে বিহ্বল পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।