মোবাইলের পর এবার সিম কার্ড কেনার টাকাও দিচ্ছে রাজ্য! অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা সরকারের

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এর আগে সরকারি অর্থে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া হলেও, এবার থেকে সেই ফোনে ব্যবহারের জন্য সিম কার্ড কেনার খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭৭ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সরকারি অনুদানে মোবাইল ফোন কিনেছেন। তবে এতদিন তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সিম কার্ড ব্যবহার করেই দপ্তরের সমস্ত কাজ চালাচ্ছিলেন। কর্মীদের কাজের ওপর নজরদারি চালাতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিভাইসে মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ইনস্টল করা হলেও তাতে কিছু প্রশাসনিক সমস্যা দেখা দেয়। এর পরেই কর্মীরা পৃথক সরকারি সিম কার্ডের জোরালো দাবি জানান, যা শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর করেছে দপ্তর। নতুন নির্দেশিকা ও শর্তাবলী:সীমা নির্ধারণ: কর্মীরা প্রথমে নিজেদের পছন্দমতো সিম কার্ড কিনে তার বিল অফিসে জমা দেবেন এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ সরকারিভাবে ফেরত পাবেন। তবে দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিম কার্ডের দাম ৩১৯ টাকার বেশি হতে পারবে না। ব্যক্তিগত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: এই সিম কার্ডের নম্বরটি সংশ্লিষ্ট আইসিডিএস কেন্দ্রের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে। কর্মীর নামে নম্বরটি থাকলেও তা কোনওভাবেই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি সেন্টারের দেওয়ালে বড় করে এই সরকারি নম্বরটি লিখে রাখতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যাংকে নিষিদ্ধ: এই বিশেষ নম্বরটি দিয়ে কোনও ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না। পাশাপাশি, সরকারি কাজ ছাড়া অন্য কোনও পরিষেবার ওটিপি (OTP) পাওয়ার জন্যও এই নম্বর ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হস্তান্তর প্রক্রিয়া: সংশ্লিষ্ট কোনো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বদলি হলে, অবসর গ্রহণ করলে বা দুর্ভাগ্যবশত মারা গেলে, সেই সরকারি সিম কার্ডটি তাঁর উত্তরসূরি বা নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। প্রশাসনের আশা, এই পদক্ষেপে গ্রামীণ স্তরে আইসিডিএস পরিষেবা আরও মসৃণ ও সুশৃঙ্খল হবে।