“শুনানির সুযোগ না দিয়ে এমন নির্দেশ কেন?” রাহুল মামলায় হাইকোর্টকে প্রশ্ন করে কড়া পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের

লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় বড়সড় হস্তক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এলাহাবাদ হাইকোর্ট যেন এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আপাতত সামনের দিকে এগিয়ে না নিয়ে যায়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে হাইকোর্টে কোনো রিপোর্ট জমা দিতেও বারণ করা হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ ও শীর্ষ আদালতের উষ্মা
এর আগে এলাহাবাদ হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI) এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-কে নির্দেশ দিয়েছিল যে, রাহুলের আয়ের উৎসের অতিরিক্ত সম্পত্তি রয়েছে কি না, সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে তা যাচাই করতে হবে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।
ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-র বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিকালে বেঞ্চ স্পষ্টতই উষ্মা প্রকাশ করে জানতে চায়, মামলাটিতে রাহুল গান্ধীকে কোনো রকম শুনানির সুযোগ না দিয়েই কীভাবে হাইকোর্ট এই ধরনের নির্দেশ জারি করল?
তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের এখতিয়ার নিয়ে পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আরও পরিষ্কার করে জানায় যে, যদি কোনো তদন্তকারী এজেন্সির কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকে যে কোনো ব্যক্তির আয়ের অতিরিক্ত সম্পত্তি রয়েছে, তবে তারা নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে। এর জন্য আদালতের পৃথক কোনো নির্দেশের প্রয়োজন পড়ে না। তবে বর্তমান মামলাটিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নিজেদের উদ্যোগে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলেই শীর্ষ আদালতে উঠে আসে। রাহুলের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল সওয়াল করেন যে, হাইকোর্টের এই প্রক্রিয়া আইনসম্মত নয় এবং এটি সঠিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে না।
মামলার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, কর্ণাটকের এক বিজেপি কর্মী এস ভিঘ্নেশ শিশিরের দায়ের করা একটি আবেদনের ভিত্তিতেই এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই মামলার জল গড়ায়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল যে, রাহুল গান্ধীর কাছে তাঁর আয়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি সম্পত্তি রয়েছে। গত মে মাসে হাইকোর্ট সিবিআই এবং ইডিকে এই অভিযোগ যাচাই করার নির্দেশ দেয় এবং পরবর্তীতে গত জুলাই মাসে সিবিআইয়ের কাছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে। তবে সিবিআইয়ের জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। অবশেষে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি আবেদন (SLP) ও মামলা স্থানান্তরের আবেদন জানান। শীর্ষ আদালতের এই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত বড় ধরনের আইনি স্বস্তি পেলেন কংগ্রেস নেতা।