অসুস্থ শরীরেই দাবার বোর্ডে ম্যাজিক! কার্লসেনের কাছে হেরেও কেন আক্ষেপ নেই ডেনিস লাজাভিকের?

প্যারিসে আয়োজিত ইস্পোর্টস বিশ্বকাপের নতুন সেনসেশন বেলারুশীয় তরুণ ডেনিস লাজাভিক। টুর্নামেন্টে একে একে ইয়ান নেপোমনিয়াতচি, নোদিরবেক আবদুসাত্তোরভ এবং হিকারু নাকামুরার মতো মহারথীদের হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ফাইনালে তাঁর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান খোদ ম্যাগনাস কার্লসেন। বিশ্বের সেরা এই খেলোয়াড়ের কাছে পরাস্ত হয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় লাজাভিকের। তবে ম্যাচ শেষে বেলারুশীয় তরুণের কোনো আক্ষেপ নেই। তাঁর স্পষ্ট কথা, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের কাছে হারলে লজ্জার কিছু থাকে না।

নরওয়ের তারকা দাবাড়ু ফাইনাল ম্যাচে লাজাভিককে কার্যত কোনো সুযোগই দেননি। একটাও গেম না হেরে নিখুঁত ছকে খেতাব ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বার ইস্পোর্টস বিশ্বকাপের মুকুট নিজের মাথায় তুলে নেন কার্লসেন।

অসুস্থ শরীরেও অদম্য দাপট

কার্লসেনের এই জয় নতুন কোনো বিস্ময় না হলেও তাঁর খেলার ধরনটি এ বার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। শরীর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দাবার বোর্ডে তিনি বিপক্ষকে স্রেফ পিষে মেরেছেন। টুর্নামেন্টে আন্দ্রে এসিপেনকো, হ্যান্স নিম্যান, নিহাল সারিন ও আলিরেজা ফিরোউজার মতো বাঘা বাঘা প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে প্রত্যেককে অনায়াসে হারিয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনালে পৌঁছান তিনি।

বদলেছে খেলার ছক: নেপথ্যে মোরিনহোর মন্ত্র

ম্যাচ শেষে লাজাভিক মন্তব্য করেন যে, আগের সেই আক্রমণাত্মক কার্লসেন আর নেই। জটিল ছকে মারকাটারি দাবা খেলার বদলে এখন শান্ত মাথায় বিপক্ষের সব রাস্তা বন্ধ করে দিতেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লাজাভিক জানান, কার্লসেন এখন আর নিজে থেকে জটিলতা তৈরি না করে দ্রুত ঘুঁটি কাটাকাটি করে এন্ডগেমে বাজিমাত করেন।

লাজাভিকের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত পোষণ করেছেন খোদ কার্লসেন। তিনি জানান, প্যারিসের এই কৌশল তাঁর ভেবেচিন্তেই নেওয়া। এর নেপথ্যে রয়েছে বিখ্যাত ফুটবল কোচ হোসে মোরিনহোর প্রভাব। কার্লসেনের কথায়, নেটফ্লিক্সে মোরিনহোর একটি ডকুমেন্টারি দেখার সময় তাঁর মনে ধরেছিল যে প্রথম মরসুমে চেলসি দল কীভাবে প্রতিটি ম্যাচ ১-০ গোলে জিতে নিত। সেই ‘মোরিনহো মন্ত্র’ মেনেই এই টুর্নামেন্টে অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে শক্তি বাঁচিয়ে খেলেছেন তিনি।

ব্যর্থতা ভুলে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

সদ্যসমাপ্ত নরওয়ে চেস টুর্নামেন্টে চার ম্যাচ হেরে যাওয়ায় কার্লসেনের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সেই ধাক্কা ঝেড়ে ফেলে প্যারিসে তিনি নতুন অবতারে ধরা দিলেন। কার্লসেনের মতে, নরওয়ের টুর্নামেন্টে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে গিয়ে অনেক ভুল হয়েছিল, যা তিনি এখানে আর পুনরাবৃত্তি করেননি। ফর্মে ওঠানামা থাকলেও এই ট্রফি জয় তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ এবং এর জন্য তিনি ভীষণ মরিয়া ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *