জিলিপি ছাড়া বাঙালির দিন কাটে না, অথচ জানেন কি এর আসল ইংরেজি নাম কী? চমকে যাবেন শুনলে!

গরম গরম রসালো জিলিপি দেখলেই জিভে জল আসে না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল। আট থেকে আশি, উৎসব হোক কিংবা সাধারণ দিন—সব সময়েই এই মিষ্টির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু এত যে চেটেপুটে জিলিপি খান, কখনও ভেবে দেখেছেন কি এই মিষ্টিকে ইংরেজিতে ঠিক কী বলা হয়?
গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র জিলিপি পাওয়া গেলেও এর সঠিক ইংরেজি নাম অনেকেরই আজও অজানা। বিদেশে সাধারণত এটিকে একটি বিশেষ ধরনের মিষ্টি বা ‘সিরাপ সোকড ইন্ডিয়ান ডেজার্ট’ (Syrup-soaked Indian dessert) বলা হয়ে থাকে। তবে এর গঠন ও স্বাদের উপর ভিত্তি করে আরও কিছু নির্দিষ্ট ইংরেজি নাম রয়েছে, যা শুনলে অবাক হতে হয়। অনেকে এর স্বাদ ও রসের কথা মাথায় রেখে একে ‘সুইট মিট’ (Sweet meat) বা ‘সিরাপ ফিল্ড রিং’ (Syrup-filled ring)-ও বলে থাকেন। যদিও জিলিপি শব্দটি এখন এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতেও এটি পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, এই লোভনীয় জিলিপির জন্ম কিন্তু একেবারেই ভারতের মাটিতে হয়নি। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের খাবার, যার আদি নাম ছিল ‘জুলবিয়া’ বা ‘জালাবিয়া’। বহু বছর আগে ব্যবসায়ীদের হাত ধরে এই সুস্বাদু খাবার ভারতে আসে এবং এখানকার মানুষের মনের মণিকোঠায় নিজের পাকাপাকি জায়গা করে নেয়।
উত্তর ভারতে এই মিষ্টির এক বিশেষ পরিচিতি রয়েছে, যা একেক জায়গায় একেক রকম। জবলপুরের খোওয়া জিলিপি, মথুরার আলু জিলিপি আর রাজস্থানের ভরতপুরের জিলিপি রীতিমতো বিখ্যাত। এই সব জায়গায় স্বাদ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি তৈরির পদ্ধতিতেও বেশ কিছু অভিনবত্ব দেখা যায়। মুচমুচে আবরণের ভেতরে থাকা মিষ্টি রসে কামড় বসালে যে স্বর্গীয় অনুভূতির সৃষ্টি হয়, তার তুলনা মেলা ভার। অনেকেই গরম জিলিপির সঙ্গে ঠান্ডা রাবড়ি, দই বা আইসক্রিম খেতে ভীষণ পছন্দ করেন। এই অদ্ভুত এবং সুস্বাদু কম্বিনেশন স্বাদ কোরকগুলিকে এক আলাদা মাত্রার তৃপ্তি এনে দেয়।
শুধুমাত্র ভারতেই নয়, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল এমনকি কিছু আফ্রিকান দেশেও জিলিপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এর অনন্য প্যাঁচালো আকার এবং অতুলনীয় স্বাদের জন্যই এটি বিশ্বজুড়ে এত সমাদৃত। এই বিপুল জনপ্রিয়তাকে উদযাপন করতে প্রতি বছর ৩০ জুলাই ‘বিশ্ব জিলিপি দিবস’ পালিত হয়। সোশাল মিডিয়াতেও এই বিশেষ দিনটিতে মিষ্টিপ্রেমীরা নিজেদের ভালোবাসা উজাড় করে দেন। তাই এবার থেকে যখনই চায়ের সঙ্গে বা উৎসবের দিনে জিলিপি খাবেন, তখন এর এই অজানা ইতিহাসটা বন্ধুদের সঙ্গেও শেয়ার করতে পারেন।