ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ! বিদেশ যাত্রার আগে কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা নাকি স্বস্তি?

বিদেশ সফরের ঠিক আগে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এই মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয় বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
হাইকোর্টে কী জানাল অভিষেকের পক্ষ?
সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তিনি আদালতে জানান, আগামী দিনে চোখের চিকিৎসার জন্য তাঁর মক্কেলের বিদেশ সফর নির্ধারিত রয়েছে। তার আগেই কোনো রকম কারণ দর্শানো ছাড়াই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
আইনজীবীর প্রশ্ন, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১০৭ ধারা প্রয়োগ না করে কী ভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা সম্ভব? ওই নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী, পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানির শুরুতে বিচারপতি রাও জানতে চান, এই সংক্রান্ত কোনো তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে কি না। এর জবাবে অভিষেকের আইনজীবী স্পষ্ট জানান, তাঁর মক্কেল আদালতের নির্দেশ মেনে সমস্ত তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করে চলেছেন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সঙ্গে সেই তদন্তের কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই। সমস্ত দিক বিবেচনা করে বিচারপতি নির্দেশ দেন যে, মামলার অপর পক্ষকে অবিলম্বে নোটিস পাঠাতে হবে। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
সাম্প্রতিক সময়ে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের শীর্ষ আদালত নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে তাঁকে সেই অনুমতিও প্রদান করেছিল।
এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই প্রসঙ্গে বলেন, “এই বিষয়ে যা বলার বিচারকরা বলতে পারবেন, কিংবা ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরেও অনেক সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ নিজের ক্ষমতার পরিধিতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারেন। আসল কারণ কী, তা সংশ্লিষ্ট পক্ষই স্পষ্ট করতে পারবে।”