আগে সংগঠন, তবেই নির্বাচন! তৃণমূল-বিজেপির দাপটের মাঝে বাংলায় কামব্যাকের নতুন ছক কষছে কংগ্রেস?

লোকসভা ভোটের এখনও বহু দেরি, কিন্তু তার আগেই বাংলার মাটিতে সংগঠনের ভিত শক্ত করতে বড়সড় পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে কংগ্রেস। ভোটের মুখে শুধু তড়িঘড়ি সদস্য সংগ্রহ বা লোকদেখানো কর্মসূচি নয়, বরং বছরভর মানুষের দুয়ারে গিয়ে সংগঠনের ভিত মজবুত করার এক নতুন ‘ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি করেছে হাত শিবির। সেই রণকৌশল কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি মালদায় এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক করলেন এআইসিসির অবজারভার হরপাল ঠাকুর। উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুকুল বসাক সহ জেলা ও নিচুতলার বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা।

গুজরাতে অনুষ্ঠিত এআইসিসির অধিবেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে আর নির্দিষ্ট কয়েকটি মাসে সদস্য সংগ্রহ অভিযান সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং সারা বছরই এই প্রক্রিয়া চলবে। আর সেই নির্দেশিকা মেনেই বাংলার প্রতিটি জেলায় সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক।

মালদা বৈঠকের আগে মৌসম নূরের দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হরপাল সাফ জানান, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু সদস্য সংখ্যা বাড়ানো নয়। বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের মতামত নেওয়া এবং সেই মতের ভিত্তিতেই বুথ থেকে জেলা স্তরের নেতৃত্ব বাছাই করা। তাঁর মতে, যাঁদের জনভিত্তি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ যাঁদের গ্রহণ করছেন, শুধুমাত্র তাঁদেরই সংগঠনের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দলের ভেতরে জবাবদিহির সংস্কৃতিও আরও কঠোর করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলায় কংগ্রেসের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়া এবং ভোটের মরশুম ছাড়া নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রথাগত রাজনৈতিক ধারা বদলাতেই এবার উপর থেকে প্রার্থী বা নেতা চাপিয়ে না দিয়ে স্থানীয় স্তরের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে এআইসিসি। অর্থাৎ ‘আগে সংগঠন, পরে নির্বাচন’—এই মন্ত্রেই এগোতে চাইছে কংগ্রেস।

তবে বাংলায় বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের আন্দোলন কেন কিছুটা ম্রিয়মান, সেই প্রশ্ন উঠতেই জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন হরপাল। তাঁর দাবি, শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশেই বিরোধী কণ্ঠস্বর রোধ করার চেষ্টা চলছে এবং ২০১৪ সালের পর থেকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কংগ্রেস তার মূল রাজনৈতিক লক্ষ্য বা দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন গড়ার কাজ থেকে একচুলও সরে দাঁড়াচ্ছে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, মালদার এই বৈঠককে নিছকই কোনো সাধারণ সাংগঠনিক জমায়েত বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যশালী জেলায় দলের পুরনো শিকড়কে ফের চাঙ্গা করে সেই মডেল রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কংগ্রেসের। এখন দেখার, নির্বাচনের বহু আগেই নেওয়া এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা ময়দানে সফল হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *