হরমুজে আমেরিকার দিন শেষ? প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে বড় বিল ইরানি সংসদে, ট্রাম্পকে নিয়ে তুমুল কটাক্ষ!

হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে তৎপর হয়েছে তেহরান। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটির ওপর নজরদারি এবং বিদেশি প্রভাব বা কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলতে যুগান্তকারী দুটি বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইরানের সংসদ। ঠিক এমন এক উত্তাল পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইরানের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত “স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান” এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলার জন্য আরেকটি বিল খতিয়ে দেখছেন সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি কমিটির সদস্যরা। এই আইন পর্যালোচনার ঠিক আগে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন শিপিং রুট বা নেভিগেশন ম্যাপ প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূলত ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী এই নতুন কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তবে তেহরানের সাফ কথা, ওয়াশিংটন তাদের কথামতো সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই তবেই এই জলপথ পুরোপুরি উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, আমেরিকা খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবে। ট্রাম্পের এই দাবির পরেই তেহরানের পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ করা হয়। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি ট্রাম্পকে হরমুজ নিয়ে ফাঁকা হুমকি না দিয়ে নিজের নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
আজিজির এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি কূটনৈতিক ঘটনা। সম্প্রতি আঙ্কারা থেকে প্রস্থানের সময় সিক্রেট সার্ভিস ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরামর্শে ট্রাম্পকে একটি বিমান থেকে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেসময় তাঁকে বিমানবন্দরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি ছোট সামরিক বিমানে তোলা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেই ঘটনার রেশ টেনেই ইরানি আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে খোঁচা দেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। একদিকে ইরানের সংসদ সদস্যরা এই কৌশলগত জলপথের ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনাও চলছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, নতুন শিপিং লেন নির্ধারণ বা ওমানের সঙ্গে চুক্তি এবং জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্তি দেওয়ার মতো শর্তগুলো আমেরিকা মানলেই তবেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।