মাটির নীচের পাইপলাইনে সিঁধ কেটে ২০ টন ক্রুড অয়েল চুরি, পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৮

রাস্তার ধারে সাধারণ এক টুকরো ফাঁকা জমি। বাইরে থেকে দেখে বিন্দুমাত্র বোঝার উপায় ছিল না ঠিক কী চলছে সেখানে। কিন্তু তার ঠিক কয়েক ফুট নীচ দিয়েই চলে গিয়েছিল হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড বা HPCL-এর অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইন। আর সেই মাটির নীচের পাইপলাইনেই অত্যন্ত নিখুঁত কায়দায় ভালভ বসিয়ে প্রায় ২০ টন ক্রুড অয়েল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এল। গুজরাত অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) এবং রাজস্থান পুলিশের যৌথ অভিযানে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিনব কায়দায় তেল চুরির পরিকল্পনা

পিটিআই সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আমদাবাদ-রাজকোট হাইওয়ের কাছাকাছি একটি এলাকায় কিছু ব্যক্তি অপরিশোধিত চোরাই তেল বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন—এমন গোপন খবর এসে পৌঁছায় গোয়েন্দাদের কাছে। এর পরেই নড়েচড়ে বসে গুজরাত ATS। তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে রাজকোটের সোখদা গ্রাম থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এরপর রাজস্থানের বালোত্রার তাপরা গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের বালোত্রার কালুদি গ্রামের সীমানায় একটি নির্জন ফাঁকা জায়গাকে বেছে নিয়েছিল অভিযুক্তরা। মাটির প্রায় তিন-চার ফুট গভীর দিয়ে যাওয়া HPCL-এর পাইপলাইনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান আগে থেকেই জোগাড় করেছিল তারা। এর পর মাটিতে সুড়ঙ্গের মতো গর্ত করে পাইপলাইনটি বের করা হয় এবং তাতে সুকৌশলে ফুটো করে ভালভ বসানো হয়। এরপর সেখান থেকে অবাধে তেল বের করে গাড়িতে ভরে অন্যত্র পাচার করা হতো। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ টন ক্রুড অয়েল চুরি করেছে এই চক্রটি। রাজস্থানের বেওয়ারের এক বাসিন্দার কাছে সেই তেল বিক্রির চক্রান্ত করার সময়ই তদন্তকারীদের নজরে পড়ে যায় তারা।

আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত জারি

ধৃতদের বিরুদ্ধে রাজস্থানের জাসোল থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় চুরি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, ‘অ্যাকুইজিশন অফ রাইট অফ ইউজার ইন ল্যান্ড অ্যাক্ট, ১৯৬২’ এবং ‘প্রিভেনশন অফ ড্যামেজ টু পাবলিক ওয়ার্কস অ্যাক্ট’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ী করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েক জনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ছোটখাটো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। এই বিশাল তেল পাচার চক্রের নেপথ্যে অন্য কোনো বড় মাথার হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *