‘পরিবারকে ভয় দেখাতে পারে দুর্নীতিগ্রস্তরা’-আশিসের প্রয়াণে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর।

রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। রবিবার সকালে রামপুরহাটে নিজের বাড়ির কাছের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।

এই পরিস্থিতিতে নবান্নে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। প্রয়াত নেতার প্রশংসা করে শুভেন্দু বলেন, “আশিসবাবু অত্যন্ত ভদ্র একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। রামপুরহাটের স্থানীয় বিজেপির সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল বলে তাঁর পরিবার আমাকে জানিয়েছে।” শুভেন্দুর দাবি, আশিসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও বেশ ভালো ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও আশিস তাঁর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

প্রয়াত নেতার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, তৃণমূলের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেদের বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করতে পারেন। তাই পরিবারকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কোনও রকম চাপ বা হুমকির ঘটনা ঘটলে তা অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি, মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানে আশিসবাবুর ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি তুলেছেন শুভেন্দু। মৃত্যুর আগে তিনি কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বা কারও সঙ্গে কোনও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার কথা বলেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত টানা ২৫ বছর রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বও তিনি সফলভাবে সামলেছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন।

রবিবার সাতসকালে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের ভিড় জমে যায়। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ঠিক কী লেখা রয়েছে এবং মৃত্যুর আসল কারণ কী, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রামপুরহাট থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *