‘২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার ডাক!’ লালকেল্লা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে আর কী বললেন নরেন্দ্র মোদী?

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে এদিন শিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং শিল্প উৎপাদন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং আত্মনির্ভরতার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
যুবশক্তি ও শিক্ষার বিকাশ
দেশের তরুণ প্রজন্মকেই ‘বিকশিত ভারত’-এর মূল ভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে আড়াই লক্ষের বেশি স্টার্টআপ তৈরির সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও জাতীয় শিক্ষানীতির জেরে যুবসমাজ আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুবশক্তির ক্ষমতায়নে দুটি বড় ঘোষণা করে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের এক কোটি তরুণ-তরুণীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের আসন্ন জনগণনার কাজেও যুবসমাজকে প্রতিদিন কিছুটা সময় দিয়ে অগ্রগতির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিরক্ষা ও উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা
বিশ্বের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভারত আর কেবল অন্য দেশের বাণিজ্যিক বাজার হয়ে থাকবে না। ড্রোনের পাশাপাশি কাউন্টার ড্রোন সিস্টেম এবং হাইপারসোনিক মিসাইল প্রযুক্তিতে দেশকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর করে তোলা হবে। উৎপাদন খাতের প্রসঙ্গে ‘জিরো ডিফেক্ট’ সংস্কৃতির ডাক দিয়ে তিনি জানান, পণ্যের মান নিয়ে কোনো আপস করা চলবে না। ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে ভারী শিল্প—সবকিছুই দেশেই উৎপাদিত হতে হবে। পাশাপাশি, দেশের সেমিকন্ডাক্টর ও পরমাণু শক্তি উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়ার জোরদার প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মহিলা ক্ষমতায়ন ও ক্রীড়া জগৎ
সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করাতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, নারীদের সামনের সারিতে নিয়ে আসা ছাড়া ‘বিকশিত ভারত’ গঠন অসম্ভব। অন্যদিকে, ক্রীড়াজগতে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে প্রতিভা অন্বেষণের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ এবং ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমসের লক্ষ্য সামনে রেখেই এই পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মাওবাদ দমন
দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে মাওবাদী হিংসার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অস্ত্রধারী জঙ্গলে থাকা মাওবাদীদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে লুকিয়ে থাকা ‘মস্তিষ্ক নকশালদের’ (Urban Naxals) ভূমিকা নিয়েও তীব্র সতর্কবার্তা দেন তিনি। ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর মাধ্যমে দেশের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সবমিলিয়ে, বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলা করে জ্বালানি ক্ষেত্রে ‘পিএম সূর্য ঘর’ যোজনার সুফল এবং রেল পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের খতিয়ান তুলে ধরে ২০৪৭ সালের মধ্যে এক উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে ১৪০ কোটি দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।