লালকেল্লার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ফ্যাশন ম্যাজিক! নরেন্দ্র মোদীর এদিনের সাজে লুকিয়ে কোন বিশেষ বার্তা?

স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে টানা ত্রয়োদশ বার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রতিবারের মতো এবারও তাঁর ভাষণের পাশাপাশি নজর কেড়েছে তাঁর ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণময় পোশাক। ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং পরম্পরাকে পোশাকে ফুটিয়ে তোলার যে ধারা তিনি শুরু করেছেন, এদিনের সাজেও তারই নিখুঁত প্রতিফলন দেখা গেল।
এবারের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর মাথা শোভা পেয়েছে একটি নজরকাড়া লাল রঙের টাই-ডাই পাগড়ি। রাজস্থান ও গুজরাটের প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই ‘বান্ধেজ’ বা সাফা কেবল একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং সম্মান, ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের প্রতীক। রাজস্থানি এই শিল্পরীতিতে কাপড়ের অংশবিশেষ সুতো দিয়ে বেঁধে রঞ্জিত করা হয়, যা এক অপূর্ব জ্যামিতিক নকশা তৈরি করে। লাল, হলুদ ও সবুজের এই ঐতিহ্যবাহী সমাহার এদিনের অনুষ্ঠানে এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছিল।
পাগড়ির সঙ্গে মানানসই করে প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছিলেন একটি পরিষ্কার সাদা রঙের কুর্তা এবং তার ওপর একটি অভিজাত বাদামি রঙের ভেস্ট কোট। তবে এই পুরো সাজের সবচেয়ে আকর্ষক সংযোজন ছিল তাঁর পকেট স্কোয়ার। গেরুয়া, সাদা এবং সবুজ রঙের এই ত্রিবর্ণরঞ্জিত পকেট স্কোয়ার সরাসরি জাতীয় পতাকার কথা মনে করিয়ে দেয়, যা তাঁর পোশাকে ফুটিয়ে তুলেছে এক গভীর দেশাত্মবোধের বার্তা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বাধীনতা দিবসে তাঁর পাগড়ি পছন্দ নিয়ে বরাবরই কৌতূহল থাকে দেশবাসীর মধ্যে। যোধপুরি বান্ধেজ থেকে শুরু করে লেহেরিয়া প্রিন্ট কিংবা কোভিডের সময়ের বিশেষ স্টাইল—বছর বছর তাঁর এই পাগড়ি বদল এখন রাজনীতির পাশাপাশি ফ্যাশন জগন্মেও এক অবিচ্ছেদ্য আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার এই মেলবন্ধন যে দেশবাসীর নজর কেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।