‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, অভিযান চালু বাংলায়, জেনেনিন মেয়েদের লাভ কী কী?

আজ পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পালিত হলো কন্যারত্ন দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে রাজ্যের ছাত্রীদের জন্য একাধিক বড় স্কলারশিপ এবং আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয় কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে চালুর ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১৮১ হেল্পলাইন চালুর কথাও জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই প্রকল্প আগে থেকেই চালু থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এতদিন তা রূপায়ণ করা হয়নি। তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হলো রাজ্য। এর ফলে শিক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সরকারি দফতরগুলির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

কী এই ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ স্কিম?

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের এই কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য হলো কন্যাসন্তানদের প্রতি বৈষম্য কমানো, জন্ম ও সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি স্কুলছুট কমানো এবং মেয়েদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন আনাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এটি সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়ার কোনো প্রকল্প নয়; বরং এটি মূলত সচেতনতা, নিরাপত্তা এবং পঠনপাঠন সুনিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ।

ছাত্রীদের জন্য আর্থিক অনুদান ও স্কলারশিপ

এদিনের অনুষ্ঠানে ছাত্রীদের আর্থিক উন্নতির জন্য বেশ কিছু বড় ঘোষণা করা হয়েছে:

  • অনুদান বৃদ্ধি: বর্তমানে ছাত্রীদের ১,০০০ টাকা করে অনুদান দেওয়া হলেও, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ অর্থাৎ ২,০০০ টাকা করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • বিশাল বরাদ্দ: চলতি বছরে ২০ লক্ষেরও বেশি ছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর জন্য মোট ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • উচ্চশিক্ষায় ৫০ হাজার টাকা: কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা যাতে অর্থাভাবে মাঝপথে থেমে না যায়, তার জন্য বাজেটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এককালীন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • বিবেকানন্দ স্কলারশিপ ও তহবিল: ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া পড়ুয়াদের জন্য যথারীতি বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ চালু রাখা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে পড়াশোনা বা জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় সফলদের উচ্চশিক্ষার জন্য স্বামী বিবেকানন্দের নামে ১০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

এদিন রাজ্যের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ছাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *