অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় আপডেট! ১০ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর জন্য কি বড় স্বস্তির খবর আসছে?

সারাদেশের প্রায় ১০ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর চোখ এখন পুরোপুরি অষ্টম বেতন কমিশনের রিপোর্টের দিকে। একদিকে লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতির বোঝা, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয়—সব মিলিয়ে দেশের পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে ‘ভারত পেনশনভোগী সমাজ’ (বিপিএস)-এর পক্ষ থেকে বেতন কমিশনের কাছে বেশ কিছু জোরালো দাবি পেশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের সবচেয়ে বড় দাবিটি হলো, পেনশন পর্যালোচনা শুধু প্রতি দশ বছরে একবার নয়, বরং আরও দ্রুত হওয়া উচিত।
প্রতি তিন মাস অন্তর ডিএ ও ডিআর বৃদ্ধির দাবি
বর্তমান নীতি অনুযায়ী, মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR) বছরে মাত্র দু’বার সংশোধন করা হয়। তবে বিপিএস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ছ’মাস পর্যন্ত দীর্ঘ বিলম্বের কারণে পেনশনভোগীদের মারাত্মক আর্থিক ভোগান্তির শিকার হতে হয়, অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতি মাসেই পরিবর্তিত হচ্ছে। তাঁদের প্রধান দাবি, গড়ে প্রতি তিন মাস অন্তর (ত্রৈমাসিকভাবে) ডিএ এবং ডিআর বৃদ্ধি করা হোক।
পাশাপাশি, তাঁরা দাবি তুলেছেন যে ডিআর ২৫ শতাংশ অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গেই তা মূল পেনশনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পাকাপাকি নিয়ম চালু করতে হবে। বর্তমান ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করার জন্য পুরনো পদ্ধতি আর কার্যকর নয়। সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, প্রতি তিন মাস অন্তর ডিআর সংশোধিত হলে পেনশনভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা কমবে না।
সর্বনিম্ন পেনশন ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে প্রস্তাব
এই সমিতির পক্ষ থেকে উত্থাপিত আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো সর্বনিম্ন পেনশন বৃদ্ধি করা, যা বর্তমানে প্রতি মাসে মাত্র ৯,০০০ টাকা রয়েছে। কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন বা বেসিক পে ৬৯,০০০ টাকায় চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তারা ৩.৮৩-এর একটি আকর্ষণীয় ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করার ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া পারিবারিক মজুরি গণনার জন্য বর্তমানে প্রচলিত ৩ ইউনিটের পরিবর্তে তাঁরা ৫.২ ওয়েটেড ইউনিটের একটি নতুন সূত্র প্রস্তাব করেছেন। সেই সঙ্গে প্রতি ১০ বছর অন্তর নয়, বরং প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বেতন ও পেনশন পর্যালোচনা করার দাবিও জানানো হয়েছে।
বৈষম্য দূর করার দাবি এবং কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ
সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি তোলা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে কিংবা পরে—যাঁরাই অবসর গ্রহণ করুন না কেন, তাঁদের মধ্যে কোনও রকম বৈষম্য রাখা চলবে না। সকলের জন্যই সমানভাবে পেনশন সংশোধন করতে হবে।
বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের সভাপতিত্বে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশন ইতিমধ্যেই তাদের কাজের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর কমিশন খুব শীঘ্রই চেন্নাই, পুদুচেরি, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করবে। ১৮ মাসের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে গঠিত এই কমিশন আগামী বছরের মে-জুনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।