স্বাধীনতা দিবসের আগেই দিল্লি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! লালকেল্লা থেকে বিমানবন্দর—সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিনে রাজধানী দিল্লি জুড়ে বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লালকেল্লা এবং দিল্লি বিমানবন্দর সহ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বোমা রাখা রয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর হুমকি পাওয়ার পরেই গোটা রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

লালকেল্লা ও বিমানবন্দর ছাড়াও দিল্লি হাইকোর্ট, ঝান্ডেওয়ালা ভবন, এম বি সাকেত অফিস এবং দিল্লি ক্যান্টনমেন্টেও ফোন করে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, খলিস্থানি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে পাঠানো একটি ইমেলের মাধ্যমেই এই হুমকি দেওয়া হয়।

যে যে স্থানগুলিতে বোমা থাকার হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেই প্রতিটি চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বোম স্কোয়াড দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যে কোনও ধরনের জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে দমকলের ইঞ্জিন ও পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও প্রাথমিক তল্লাশি অভিযানের পর এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরকের সন্ধান মেলেনি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।

সূত্রের মারফত জানা গিয়েছে, শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে একটি ইমেল পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে জানানো হয় যে, আগামী ১৫ অগাস্ট ঠিক বেলা ২টা ১১ মিনিটে আদালত চত্বরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। শুধু তাই নয়, ওই একই ইমেলে দাবি করা হয়েছে যে শনিবার দিল্লির বিভিন্ন জেলা আদালতেও বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে বোমা ফাটানো হবে। এমনকি দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো লাইনগুলিতেও বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই হুমকি ইমেলে ১৯৮৪ সালের শিখ বিরোধী দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে খলিস্থানিপন্থী বিভিন্ন দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে এমনিতেই দিল্লি এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে (এনসিআর) নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছিল। লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, কনট প্লেস, ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং নতুন দিল্লি রেল স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুগ্রাম সহ দিল্লিতে প্রবেশের এবং শহর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সমস্ত রুটগুলিতে পুলিশের কড়া নাকা তল্লাশি চলছে। বিশেষ করে ভিআইপি যাতায়াতের পথ এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাগুলিতে বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *