“ক্ষমার অযোগ্য, তবে ওঁর…’ নেতাজি-বিদ্বেষী অনন্তকে নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু অধিকারী

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে লাগাতার অবমাননাকর মন্তব্য করার পর অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। তবে তাঁর এই ক্ষমা প্রার্থনা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তরজা থামছে না। এপ্রসঙ্গে মুখ খুলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, অনন্ত মহারাজ যা করেছেন তা আদতে ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’।
ঠিক কী বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী?
শুক্রবার একটি বিধায়ক কাপের উদ্বোধনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অনন্ত মহারাজের ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘উনি ক্ষমার অযোগ্য কাজ করেছেন। তবে উনি রাজ্যসভার বর্ষীয়ান সদস্য। ওঁর বয়সের কথা মাথায় রেখেই আমি বলছি, নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি যেহেতু ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন, সেটা ভালো করেছেন।’
পাশাপাশি, নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দু জানান, ইতিমধ্যেই নেতাজির বিরুদ্ধে কুরুচিকর পোস্ট করার অপরাধে মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রায় ২৮৭টি আপত্তিকর ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় আলাদা করে ৬টি এফআইআর (FIR) ও দায়ের করা হয়েছে।
বঙ্গবিভূষণ সম্মান কেড়ে নেওয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য
অনন্ত মহারাজের কাছ থেকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নেওয়া প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘বঙ্গবিভূষণ সম্মান কে দিয়েছিল ওঁকে? এখন এত কথা বললে হবে! রাজ্যসভায় এমন অনেক সদস্য রয়েছেন, এমন অনেককে পাঠানো হয় যাঁরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন।’ উল্লেখ্য, এর আগে নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর সেই হুঙ্কারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোচবিহারের এই নেতার কাছ থেকে রাজ্য সরকারের তরফে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর পরেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজের ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নেন অনন্ত মহারাজ।