আমেরিকার ‘অবিশ্বাস্য’ হয়ে ওঠার সুযোগে কি নতুন সমীকরণ? সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক জোট নিয়ে ভারতের বড় উদ্বেগ

 

বিশ্ব ভূ-রাজনীতির মানচিত্রে তৈরি হলো এক নয়া সমীকরণ। সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Joint Defence Pact) ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই জোট গঠনকে আমেরিকার ক্রমহ্রাসমান প্রভাব এবং পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের ‘নিরাপত্তা রক্ষক’ ভাবমূর্তির সংকটের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন প্রবীণ কূটনীতিবিদরা।

প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত বিদ্যা ভূষণ সোনি একটি সাক্ষাৎকারে এই চুক্তির সময়কালকে অত্যন্ত ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, গত দেড় বছরে বিশ্ব পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে। আমেরিকা এতদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তির জামিনদার বা নিরাপত্তা প্রদানকারীর ভূমিকা পালন করে আসছিল, কিন্তু সেই ভরসা এখন দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

আমেরিকা কি ব্যর্থ?

কূটনীতিবিদ সোনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি, বিশেষ করে সৌদি আরব এখন যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর আক্রমণে মার্কিন ঘাঁটিগুলিও নিরাপদ থাকছে না। ওয়াশিংটন যেভাবে নিজেদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে, তাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলি বাধ্য হয়েই নতুন করে নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন কোনো আঞ্চলিক কাঠামোর কথা ভাবছে।”

ভারতের জন্য বার্তা

এই নতুন সামরিক জোট মূলত পশ্চিম এশিয়া কেন্দ্রিক হলেও, নয়াদিল্লির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, যদিও এটি এখনকার ঘটনা, তবে ভবিষ্যতে এই দেশগুলি নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি বা কৌশল পরিবর্তন করলে তা ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই এই পরিস্থিতির ওপর ভারতের তীক্ষ্ণ নজর রাখা একান্ত প্রয়োজন।

আমেরিকার ক্রমবর্ধমান দুর্বলতাকে পুঁজি করে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মতো তিনটি ভিন্ন শক্তি একজোট হয়ে নিজেদের সুরক্ষায় কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই জোট গঠনের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে আমেরিকার প্রভাব যে দ্রুত ফিকে হয়ে আসছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *