উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার আগেই কি স্কুল ছাড়ছে ৭৩ শতাংশ পড়ুয়া? এল বিস্ফোরক রিপোর্ট

২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তির আগেই দেশের সার্বিক বিকাশ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকেও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি সংসদের বাদল অধিবেশনে পেশ করা এস্টিমেট সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির একটি রিপোর্টে দেশের শিক্ষা পরিকাঠামো এবং পড়ুয়াদের ড্রপআউট হার নিয়ে বড়সড় শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
দিল্লির সংসদীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, এস্টিমেট কমিটির ওই রিপোর্টে সাফ জানানো হয়েছে যে, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা শেষ করার আগেই সারা দেশে প্রায় ৭৩ শতাংশ পড়ুয়া স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। শুধু ড্রপআউটের হারই নয়, দেশের স্কুলগুলির সংখ্যার তারতম্য নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি রাজ্যেই প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের তুলনায় মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের সংখ্যা অত্যন্ত কম।
ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন বা ‘উডিসে’ (UDISE)-এর ২০২৪-২৫ সালের তথ্য তুলে ধরে সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ১০ লক্ষ ৯২ হাজার ৬৭১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের স্কুল রয়েছে ৯ লক্ষ ১১ হাজার ৩২টি এবং উচ্চ-প্রাথমিক স্তরের স্কুল রয়েছে ৪ লক্ষ ১২ হাজার ৮০৫টি। অথচ এই সংখ্যাটি মাধ্যমিক স্তরে এসে নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়াচ্ছে মাত্র ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৮০৮টিতে। আর উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে গোটা দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা মাত্র ৯০ হাজার ৮৬৬টি। এই ব্যবধান দূর করতে দ্রুত স্কুল ও পরিকাঠামো বাড়ানোর জোরালো সুপারিশ করেছে কমিটি।
পাশাপাশি, পড়ুয়াদের সংখ্যার যে পরিসংখ্যান কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে, তাও যথেষ্ট চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে। তথ্য বলছে, দেশের সমস্ত রাজ্য মিলিয়ে প্রাথমিক স্তরে মোট ৬ কোটি ১৮ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৩ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি বা উচ্চ-প্রাথমিক স্তরে সেই সংখ্যাটি কমে দাঁড়াচ্ছে ৪ কোটি ৮ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯৭৮ জনে। এরপর মাধ্যমিক স্তরে পড়ুয়ার সংখ্যা নেমে আসে ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ৬৮ হাজার ২২০ জনে এবং উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে তা আরও কমে ১ কোটি ৬৪ লক্ষ ১৭ হাজার ৯৪৯টিতে ঠেকে। সার্বিক এই পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।
এর আগে গত ৭ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত একটি রিপোর্টেও দেখা গিয়েছিল, ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা প্রায় ৮৬ লক্ষ কমেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি স্বীকৃত স্কুলগুলিতে ৮৮ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া ভর্তি হয়েছে। একদিকে সরকারি স্কুল থেকে পড়ুয়াদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিপুল ড্রপআউটের এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার এখন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।