অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ কাড়ল রাজ্য! মুখ খুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য এবং সমাজমাধ্যমে অবমাননাকর পোস্ট করার জেরে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। এই ঘটনার পরেই বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলো অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য এবং সংস্কৃতি দফতরের তরফে সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, রাজ্য ও জনগণের প্রতি বিশিষ্ট অবদানের জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এমন কিছু পরিস্থিতি ও ঘটনা সরকারের নজরে এসেছে, যা অত্যন্ত গুরুতর। এই পরিস্থিতিতে শ্রী নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের মতো ব্যক্তির কাছে এই সম্মান বজায় রাখা বঙ্গবিভূষণের মর্যাদা ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, সমস্ত দিক বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, অনন্ত মহারাজের এই সম্মান আর বহাল রাখা যায় না। সেই কারণেই ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে তাঁকে প্রদান করা ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

এদিকে সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের পর রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “অনন্ত মহারাজের পাগড়ি খুলে নেওয়া হলে আমি আরও খুশি হব। ওনাকে বঙ্গ বিভূষণ কেন দেওয়া হয়েছিল সেটা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বলতে পারবেন। ওনার সম্মান কেড়ে নেওয়াকে আমরা আন্তরিক ভাবে স্বাগত জানাচ্ছি। শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে আইনগত ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেই মনে করি।”

প্রশাসনিক মহলের মতে, নেতাজি সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাবিধ পোস্টের জেরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। সমস্ত নথি এবং তথ্য খতিয়ে দেখার পরেই সরকারের তরফ থেকে এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ করা হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *