তিন বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েও ইতিহাস! আইআইটি বোম্বের চমকপ্রদ সাফল্যে চোখ জুড়ল নেটদুনিয়ার

তিন বছর বয়সে মাথার উপর থেকে পিতৃছায়া হারিয়ে যাওয়া এক শিশুর অভাবনীয় সাফল্যের গল্প এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জম্মু-কাশ্মীরে দেশের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হয়েছিলেন বাবা। ছোট্ট অতুলকে বুকে আগলে সেই শূন্যতা পূরণ করেছিলেন মা। কঠিন লড়াই পেরিয়ে অবশেষে জয় ছিনিয়ে নিলেন উত্তরপ্রদেশের মথুরার এই মেধাবী তরুণ। জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন বা জেইই-এডভান্সড ২০২৬ (JEE-Advanced 2026)-এ দারুণ সাফল্য পেয়ে সোজা আইআইটি বোম্বেতে (IIT Bombay) কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেন অতুল ডাগর।
উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোটার একটি নামী কোচিং ইনস্টিটিউটে থেকে পড়াশোনা করে জেইই-এডভান্সড পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র্যাংক ৩,৪৬৩ অর্জন করেছেন অতুল। ডিফেন্স সার্ভিস ক্যাটাগরির সুবাদে তিনি আইআইটি বোম্বের কম্পিউটার সায়েন্স (CS) বিভাগে ভরতি হয়েছেন। অর্থাভাবে যাতে পড়াশোনা আটকে না যায়, সেজন্য ওই কোচিং সেন্টারের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিশেষ স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছিল।
শহিদ বাবার প্রতি শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য
২০০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জম্মু-কাশ্মীরে ‘অপারেশন রক্ষক’-এর সময়ে ভারতীয় সেনার জাট রেজিমেন্টের সেনা জওয়ান সুধীর কুমার ডাগর দেশের জন্য আত্মবলিদান দেন। তখন ছোট্ট অতুলের বয়স মাত্র তিন বছর। এরপর থেকে মা কৃষ্ণা দেবী একা হাতে দুই বোন ও অতুলকে বড় করে তোলেন। আইআইটিতে সফল হওয়ার পর আবেগপ্রবণ অতুল জানান, “আজ বাবা আমাদের সঙ্গে নেই, তবে তাঁর আশীর্বাদ সবসময় আমার সঙ্গে রয়েছে। এই সাফল্য আমি বাবাকেই উৎসর্গ করছি।”
পড়াশোনার পাশাপাশি স্টার্টআপ
ছোট থেকেই গণিত, বিজ্ঞান এবং কোডিংয়ের প্রতি গভীর ঝোঁক ছিল অতুলের। পড়াশোনার পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনি একটি অনলাইন স্টার্টআপও শুরু করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর স্কুলগুলির পরীক্ষার জন্য শিশুদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। নিজের কোডিং দক্ষতায় নিজেই এই ওয়েবসাইটের ডিজাইন করেছেন অতুল। যেখানে তিনি ছাত্রছাত্রীদের রিজননিং পড়ান।
ছেলের এমন সাফল্যে গর্বিত মা কৃষ্ণা দেবী বলেন, “আইআইটি বোম্বেতে ভরতি হয়ে ও ওর শহিদ বাবাকে সবচেয়ে বড় সম্মান জানিয়েছে।” অন্যদিকে, যে কোচিং ইনস্টিটিউট থেকে অতুল এই সাফল্য অর্জন করেছেন, তার প্রতিষ্ঠাতা ডা. নবীন মহেশ্বরী জানিয়েছেন, শহিদ পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে ২০১৮ সাল থেকে ‘শৌর্য স্কলারশিপ’ চালু করা হয়েছে, যার সুবাদে বহু মেধাবী পড়ুয়া আজ নিজেদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাচ্ছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার আলো ছড়ানোর এই অনন্য উদাহারণ এখন খবরের শিরোনামে।