লালকেল্লা বিস্ফোরণে সরাসরি আল-কায়দা যোগ! রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের নেপথ্যে কি আল-কায়দার ভারতীয় শাখা বা একিউআইএস (AQIS)? ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির বুকে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। তবে এবার এই ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় এল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের ৩৮তম রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অগস্ট ২০২৬-এ জমা পড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ৩৮তম রিপোর্টে প্রথমবারের মতো সরাসরি লালকেল্লা বিস্ফোরণের সঙ্গে একিউআইএস-এর যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই রিপোর্টটি তৈরি করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের পর্যবেক্ষকরা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, একসময় কোণঠাসা হয়ে পড়া একিউআইএস বর্তমানে ‘ডিসেন্ট্রালাইজড সেল’ বা ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী তৈরি করে পুনরায় নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিজস্ব আর্থিক তহবিল ও রসদ সংগ্রহের ব্যবস্থাও তারা জোরদার করছে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশেও তারা তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পর্যবেক্ষকরা।
দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা
দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্টটিতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের উত্তেজনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। একদিকে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-কে আফগানিস্তানের তালিবান মদত দিচ্ছে বলে পাকিস্তানের অভিযোগ, অন্যদিকে সীমান্তপার হামলার জেরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতও চরমে। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় ‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ (IMP)-এর আত্মঘাতী হামলার সঙ্গেও একিউআইএস-এর সংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।
প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ
সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা নিয়েও রাষ্ট্রপুঞ্জ বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আইএসআইএল-কে (ISIL-K)-এর মতো সংগঠনগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে তাদের প্রচারমূলক কনটেন্ট বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করছে। সন্ত্রাসবাদী তথ্য সংগ্রহ এবং রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির উপায় নিয়েও এআই-নির্ভর প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনকি, আইএসআইএল-এর ইংরেজি পত্রিকা ‘ইনভেডে’ বিষাক্ত রাসায়নিক নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশের ঘটনাও নজরে এনেছেন পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদী নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত কয়েক মাসে তিনটি নাম নতুন করে যুক্ত হয়েছে এবং সাতটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আল-নুসরা ফ্রন্ট বা ‘হায়াত তাহরির আল-শাম’-কে এই তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে এনআইএ-র চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় এখন দেশবাসী, যার ওপর ভিত্তি করেই হয়তো এই জঙ্গি চক্রের শিকড় খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।