কুণালের বাড়ি-অফিসে ভাঙচুর-তাণ্ডব, BJP নয়, কার দিকে আঙুল তুললেন MLA?

বুধবার রাতে তীব্র উত্তেজনায় তোলপাড় হয়ে উঠল কলকাতা শহরের বেলেঘাটা এলাকা। রাজ্যের পরিচিত তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়ি এবং অফিস লক্ষ্য করে একদল দুষ্কৃতী ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

সূত্রের খবর, বুধবার রাতে হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী প্রথমে কুণাল ঘোষের বাড়ির চত্বরে এবং পরবর্তীতে তাঁর দলীয় কার্যালয় ঘিরে চড়াও হয় এবং ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের বাইরে থাকা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ব্যানার ও পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার সময় কুণাল ঘোষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে বাড়ি ফিরে পুরো বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। বিধায়ক নিজে এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে একটি সুপরিকল্পিত হামলা বলে অভিহিত করেছেন।

পুলিশের তৎপরতা ও তদন্ত

হামলার খবর পাওয়ামাত্রই বুধবার রাতেই বেলেঘাটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালাল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের গতিবিধি ও শনাক্তকরণের জন্য আশপাশের এলাকার সমস্ত CCTV ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

রাজনৈতিক শত্রুতার অভিযোগ ও কুণাল ঘোষের নিশানায় কে?

ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে ঘটানো হামলা বলেই মনে করছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই তাণ্ডব চালানো দুষ্কৃতীরা কেউই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নয়, বরং বাইরে থেকে সুপরিকল্পিতভাবে তাদের পাঠানো হয়েছিল।

এই ঘটনার পেছনে সরাসরি বিরোধীদের পাশাপাশি দলের অন্দরের একাংশ এবং প্রতিপক্ষ শিবিরের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। কুণাল ঘোষ অভিযোগের সুরে জানান, “উত্তরের গ্রুপে এই ছবি প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চামচে বাপি। বাকিটা বুঝে নিন। উত্তর কলকাতায় কে কে এই প্যাটার্নে লোক পাঠিয়ে বাঁদরামি করায়, জানি। জলাভূমি বোজানোর মাফিয়ারা কার কার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, তাও জানি।” এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আরও তীব্র হয়েছে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার নেপথ্যে থাকা আসল কুশীলবদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *