নিয়োগ ব্যবস্থায় ইউপিএসসির ধাঁচে বিরাট বদল! হাতের মুঠোয় সরকারি চাকরি আনতে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, দেখুন বিশদ বিবরণ

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে ঢেলে সাজাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় তথা ইউপিএসসির (UPSC) আদলে রাজ্যের নিয়োগ কাঠামোকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মেগা উদ্যোগে পুরসভা এবং সমবায় দফতরের নিয়োগ প্রক্রিয়াকেও পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা PSC-এর আওতার মধ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি শীর্ষ স্তরের বৈঠক এবং সাংবাদিক বৈঠকে পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন আমলা অনিল বর্মা এবং প্রশাসনিক কর্তারা এই বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন।

১. কোন কোন পদে হবে নিয়োগ?

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ স্তরে মোট ১৭,৭১৪টি শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পদগুলির বিভাজন নিম্নরূপ:

  • গ্রুপ ‘এ’ পদ: মোট ২,৪৯০টি শূন্যপদ। এর মধ্যে রয়েছে ডব্লিউবিসিএস (এক্সিকিউটিভ), জুডিশিয়াল অফিসার, লিগ্যাল সার্ভিস, পুলিশ, অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস সার্ভিস এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি।

  • গ্রুপ ‘বি’ পদ: এই স্তরে শূন্যপদের সংখ্যা ২,৮৪৮টি।

  • গ্রুপ ‘সি’ বা ক্ল্যারিক্যাল স্তর: সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে এই বিভাগে, যার সংখ্যা প্রায় ১২,৩৭৬টি।

২. শীঘ্রই আসছে প্রথম ধাপের ৮ হাজার শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল শূন্যপদের মধ্যে থেকে খুব শীঘ্রই প্রথম দফায় প্রায় ৮,০০৬টি পদে লোক নেওয়ার জন্য অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে কমিশন। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি সোনালী সুযোগ হতে চলেছে।

৩. ফলাফল প্রকাশ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে কড়া নির্দেশ

নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশে অস্বাভাবিক দেরি হওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে প্যানেল আটকে থাকার সমস্যায় চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ দূর করতে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দিনে যেকোনো পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। কোনো পরীক্ষার প্রক্রিয়া বা ফলাফল অহেতুক দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রাখা চলবে না। পাশাপাশি, যে সমস্ত পরীক্ষাগুলির প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে বা নেওয়া বাকি আছে, সেগুলির কাজও দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *