‘বাবা, তোমাকে ছাড়া কী করব জানি না…’ দীর্ঘ ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অবসরের ইঙ্গিত দিয়ে কেঁদে উঠলেন লিওনেল মেসি

জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন বিশ্ব ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর গত ৭ অগাস্ট ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন তাঁর বাবা তথা জীবনের অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক জর্জ মেসি (Jorge Messi)। বাবার প্রয়াণে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করে তিনি শুধু বাবার প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তাই নয়, একইসঙ্গে নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় সংশয় ও অবসরের জল্পনা উসকে দিয়েছেন।
বাবার ছায়াসঙ্গী ও মেসির কেরিয়ার
ছোটবেলা থেকে রোজারিওয়ের রাস্তা থেকে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানো পর্যন্ত মেসির ছায়া হয়ে পাশে ছিলেন তাঁর বাবা জর্জ। শুধু অভিভাবক হিসেবেই নয়, ছেলের ফুটবল কেরিয়ারে ম্যানেজার, এজেন্ট এবং প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবেও সমস্ত দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। বাবার প্রয়াণের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মেসি রোজারিওতে শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার পর অনির্দিষ্টকালের জন্য ফুটবল থেকে বিরতি নিয়েছেন এবং তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামিও (Inter Miami) তাঁকে ছুটি দিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামের সেই দীর্ঘ ও হৃদয়বিদারক চিঠি
ইনস্টাগ্রামে নিজের শোক প্রকাশ করে মেসি লিখেছেন, বাবাকে ছাড়া কীভাবে তিনি সামনে এগোবেন বা কী করবেন, তা তাঁর জানা নেই। চিঠিতে উঠে এসেছে কেরিয়ার ও বিশ্বকাপের একাধিক না পাওয়ার যন্ত্রণা:
-
অবসরের জল্পনা: ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মেসি লিখেছেন, ‘আমি শুধু ফুটবলটাই খেলেছি। কিন্তু এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে যে, আমি আর বেশিদিন এই খেলা চালিয়ে যেতে পারব কি না। একদম শুরু থেকে তুমি আমার পাশে ছিলে।’
-
বিশ্বকাপের আক্ষেপ: বাবাকে শেষ বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বাবার শরীর সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়ে পড়েছিল। ফাইনালে পৌঁছালেও পেনাল্টিতে হেরে যাওয়ার পর তিনি আর বাবাকে ট্রফি উপহার দিতে পারেননি। আক্ষেপের সুরে মেসি লিখেছেন, ‘আমি জিততে চেয়েছিলাম যাতে ট্রফিটা তোমার কাছে নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু পারলাম না। আমার পা আর চলছিল না।’
চিঠির শেষাংশে বাবাকে নিজের বন্ধু, অভিভাবক এবং প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে শান্তিতে ঘুমানোর প্রার্থনা করেছেন এবং উপর থেকে তাঁদের দিকে সবসময় নজর রাখতে বলেছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই ফুটবলার। মেসির এই আবেগঘন পোস্ট ঘিরে এখন থেকেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।