ভোট মিটলেও স্কুল ছাড়েনি কেন্দ্রীয় বাহিনী! প্রায় ৪ মাস ধরে তালাবন্ধ এই স্কুল, শিকেয় পড়াশোনা

বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেলেও এখনও জট কাটেনি। ভোটের কাজে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনী এখনও ডেরা বেঁধে রয়েছে মালদার ইংরেজবাজারের শান্তা দেব্যা হাইস্কুলে। এর জেরে গত প্রায় চার মাস ধরে স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পঠনপাঠন তো দূরঅস্ত, নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষাও নিতে পারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে অবিলম্বে স্কুল খালি করে পঠনপাঠন স্বাভাবিক করার দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
ঠিক কী ঘটেছে?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিধানসভা ভোট উপলক্ষে গত ১৪ এপ্রিল প্রথমবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাখা হয়েছিল মালদার ইংরেজবাজারের এই শান্তা দেব্যা হাইস্কুলে। এরপর ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পর গরমের ছুটির সময় কিছুদিন বাহিনী সরে যাওয়ায় গত ১ জুন স্কুলটি একবার খোলে।
কিন্তু এর ঠিক পরেই গত ১৩ জুন ফের এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এনে এই স্কুলেই উঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ওই বাহিনী স্কুলেই অবস্থান করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলে বাহিনী রেখে দেওয়ায় কার্যত মাথায় হাত পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের।
পঠনপাঠন ও পরীক্ষাতে ব্যাপক প্রভাব
চলতি অগাস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যের অন্যান্য সমস্ত স্কুলে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু শান্তা দেব্যা হাইস্কুলে বাহিনী জাঁকিয়ে বসে থাকায় কোনো পরীক্ষাই নেওয়া সম্ভব হয়নি। চার মাস ধরে ক্লাস বন্ধ থাকায় সিলেবাস তো এগোয়নিই, উল্টে ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে পড়ে গেছে পড়ুয়ারা।
স্কুলের এক ছাত্র আক্ষেপের সুরে জানায়, “আমাদের স্কুল দীর্ঘ ৪ মাস ধরে বন্ধ। সমস্ত স্কুলে পরীক্ষা হয়ে গেলেও আমাদের এখানে তা সম্ভব হয়নি। ভোটের আগে থেকেই ফোর্স আমাদের স্কুল দখল করে রয়েছে।” উল্লেখ্য, এই স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা সাড়ে আটশোরও বেশি। পাশাপাশি ১৭ জন শিক্ষক, ২ জন পার্শ্ব শিক্ষক এবং ৩ জন অশিক্ষক কর্মী রয়েছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা এই স্কুলের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাসের বার্তা
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং জেলা শিক্ষা দফতরে চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে স্কুল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরানোর জোরালো আর্জি জানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, এত দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়ায় বাকি সময়ে সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে গোটা বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং। তিনি আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই ওই এক কোম্পানি প্যারামিলিটারি ফোর্সকে রাখা হয়েছিল। তবে বিকল্প জায়গার সন্ধান চলছে এবং খুব শীঘ্রই এই স্কুল থেকে বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।