‘নেতাজির বাপের শক্তি আছে…’! বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের বেফাঁস মন্তব্যে শোরগোল

ভারত যখন তাঁর ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ ও তিরঙ্গা যাত্রার জোয়ার এসেছে, ঠিক তখনই দেশের বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা বাঙালি আইকন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক বিতর্ক। কোচবিহারের স্বঘোষিত মহারাজা তথা গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের একের পর এক আপত্তিকর মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য ঘিরেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে এর তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি রাজপথে নেমেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
অনন্ত মহারাজ ঠিক কী বলেছেন?
পৃথক রাজ্য গ্রেটার কোচবিহারপন্থী অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিশানা করে একাধিক কুরুচিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি—
-
কোচবিহারের তৎকালীন মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ যদি ভারত তথা সারা পৃথিবীকে স্বাধীন করে দেশ ও বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতেন এবং তাঁকে সম্রাট বানানো হতো, তবে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হতো না।
-
তাঁর আরও দাবি, নেতাজির নিজস্ব কোনো শক্তি বা ক্ষমতা ছিল না। জার্মানদের বন্দি করা ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়েছিল। নেতাজি তার অপব্যবহার করেছিলেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
-
ব্রিটিশ শাসনের আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ টেনে অনন্ত মহারাজ বলেন, ব্রিটিশ আমলে যদি কেউ সরকারের বিরুদ্ধে বন্দুক ধরত, তবে তাকে সাজা দেওয়া হতো। তাহলে আজাদ হিন্দ ফৌজের সদস্যদের কেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন বলেও আজব দাবি করেন এই বিজেপি সাংসদ।
শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যেও বিতর্ক
শুধু অনন্ত মহারাজই নন, গত মাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি দাবি করেছিলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পেছনে ফরওয়ার্ড ব্লকের কর্মীরা যুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাদের ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলে আক্রমণ করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, সেই সময় হিন্দুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে সুভাষচন্দ্র বসু ও শরৎচন্দ্র বসু শ্যামাপ্রসাদের আবেদন সেভাবে গুরুত্ব দেননি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশের মহানায়ক নেতাজিকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ ও নেতার এহেন মন্তব্যে দেশজুড়ে বাঙালি আবেগে তীব্র আঘাত লেগেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল—সর্বত্রই এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে। বিরোধীদের পাশাপাশি এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। স্বাধীন ভারতের গোড়াপত্তনে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে খাটো করার এই অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলেই হুঙ্কার দিয়েছে বিভিন্ন মহল।