“শর্টকাট জীবনের বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে!”-Gen Z-দের সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের আত্মজীবনী প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বর্তমান প্রজন্মের জেন জি (Gen Z)-দের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব ও শর্টকাটের যুগে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, জীবনে বড় কিছু অর্জন করতে হলে শর্টকাট নয়, বরং সঠিক পথে পরিশ্রম করা জরুরি।

Gen Z-কে শর্টকাট না নেওয়ার পরামর্শ মোদীর

অনুষ্ঠানে রেল স্টেশনের একটি চেনা উদাহরণের সাহায্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেমন তাড়াতাড়ি রাস্তা পার হতে গিয়ে ব্রিজ ব্যবহার না করে রেললাইন পার হয় এবং পরিণামে দুর্ঘটনার শিকার হয়, ঠিক তেমনই জীবনে ভুলের শর্টকাট বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার বহু ইনফ্লুয়েন্সার যুবসমাজকে খুব সহজে আকৃষ্ট করলেও তরুণদের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। জীবনে সফল হতে এবং অন্যদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হলে বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও পছন্দের মানুষদের আত্মজীবনী পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

রামনাথ কোবিন্দের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

বুধবার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের লেখা ‘দ্য ট্রায়াম্ফ অফ দ্য ইন্ডিয়ান রিপাবলিক: মাই লাইফ, মাই স্ট্রাগল’ শীর্ষক আত্মজীবনীটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বইটির নামকরণের সার্থকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বইটিতে কোবিন্দের ব্যক্তিগত জীবন, কঠিন সংগ্রাম এবং সাফল্যের অবিশ্বাস্য যাত্রার কথা ফুটে উঠেছে। তাঁর এই সাফল্য কেবল কোনো একক ব্যক্তির জয় নয়, বরং এটি ভারতের সুমহান প্রজাতন্ত্র ও গণতন্ত্রেরই এক বড় বিজয়।

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পরেও দেশ সেবায় যেভাবে কোবিন্দ নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদী। বিশেষ করে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যেভাবে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন, তাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতির রোমন্থন

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের বেশ কিছু সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি ভবনে কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রোটোকলকে উপেক্ষা করে তিনি সবসময় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেন এবং বিদায় জানানোর সময় গাড়ির দরজা পর্যন্ত এগিয়ে আসতেন। এছাড়া, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর নিজের জন্মগ্রাম পারৌঙ্খতে গিয়ে সেখানকার শিক্ষকদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা এবং মাটির প্রতি তাঁর বিনম্র শ্রদ্ধার ঘটনা গোটা দেশকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল বলে মন্তব্য করেন মোদী। এই সংস্কার ও সংস্কৃতির মূল্যবোধই ভারতের আসল পরিচয়, যা নিয়ে প্রতিটি ভারতীয়ের গর্ব করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *