অবশেষে সব জল্পনার শেষ! দীর্ঘদিনের বান্ধবী জর্জিনাকে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

লিওনেল মেসির সঙ্গে তাঁর তুলনা যেমন বিশ্ব ফুটবলে চিরকালীন, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে জল্পনারও অন্ত ছিল না। তবে অবশেষে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘদিনের বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করলেন পর্তুগিজ ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। মঙ্গলবার পর্তুগালের ক্যাসকাইসে একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করলেন এই তারকা জুটি।

আংটি বদলের ছবি দিয়েই সুখবর
পর্তুগালের মাটিতে এই রাজকীয় জুটির বিয়েতে কোনো জমকালো বা মিডিয়ার আড়ম্বর ছিল না। নিজেদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনতে তাঁরা কোনো বড় শো অফ না করে কেবল হাতে পরা বিয়ের আংটি শোভিত হাতের একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করেছেন। ক্যাসকাইসে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ দিনে তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিল পরিবারের ঘনিষ্ট সদস্য এবং তাঁদের পাঁচ সন্তানও। বিশ্বখ্যাত ইতালীয় ফুটবল সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানোও ইতিমধ্যেই রোনাল্ডো ও জর্জিনার এই বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্বকাপ অধরা, তবুও ব্যক্তিগত প্রাপ্তি পূর্ণ
সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপে রাউন্ড অব সিক্সটিনে স্পেনের কাছে হেরে পর্তুগালের বিদায় নেওয়ার পর, একচল্লিশ বছর বয়সি রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আবারও অধরাই থেকে গিয়েছে। মাঠের সেই বড় হতাশা ও শূন্যতার মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনে এল এক পরম শান্তি ও সুখবর। ৩২ বছরের স্প্যানিশ মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে দীর্ঘ প্রেম ও সম্পর্কের পর এবার তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী।

ভুলের গুঞ্জন ও মাদেইরার মজার ঘটনা
বিয়ের ঠিক আগে জল্পনা চরমে উঠেছিল। খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, রোনাল্ডোর নিজের শহর মাদেইরার ফুনচালের এস ক্যাথেড্রালেই নাকি সাতপাকে বাঁধা পড়বেন তাঁরা। সেই খবর শুনে শত শত ভক্ত ও উৎসাহী মানুষ ক্যাথেড্রালের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন, যদি এক ঝলক দেখা পাওয়া যায় রোনাল্ডো ও জর্জিনার!

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, বেদির দিকে যিনি এগিয়ে যাচ্ছেন, তিনি জর্জিনা নন। বরং নিকোল নামে এক মহিলা তাঁর সঙ্গী ফাবিওকে বিয়ে করতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। ভুলের বশে রটে যাওয়া এই খবর নিয়ে সে সময় বেশ চাউর হয়েছিল পরিবেশ, যা দেখে খোদ রোনাল্ডোও মজা পেয়েছিলেন। ইনস্টাগ্রামে সেই ঘটনা নিয়ে করা একটি পোস্টে তিনি হাসতে হাসতে চোখে জল আসার ইমোজি দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এমনকি রোনাল্ডোর পরিবারের পক্ষ থেকেও সেই সপ্তাহে বিয়ের খবর অস্বীকার করা হয়েছিল, আর রোনাল্ডো নিজে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন।

গুচির দোকান থেকে রূপকথার প্রেম
২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে প্রথম দেখা হয়েছিল রোনাল্ডো ও জর্জিনার। সেখানে কাজ করতেন জর্জিনা। এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে জুরিখে দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডসে প্রথমবার একসঙ্গে রেড কার্পেটে ধরা দেন তাঁরা। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় গভীর প্রেমে। জর্জিনার নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘আই অ্যাম জর্জিনা’-তে রোনাল্ডো অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে, সম্পর্কের শুরুতে তিনি কখনই ভাবেননি এই প্রেম এতটা গভীর ও শক্তিশালী হবে।

রোনাল্ডোর ভাষায়, “শুরুতে আমি ভাবিনি যে এটা এতটা শক্তিশালী সম্পর্ক হবে, যে আমি ওর প্রেমে পড়ে যাব। সত্যি বলতে, আমি এটা আশা করিনি। কিন্তু কিছু সময় পর আমার মনে হলো, ও-ই আমার জীবনের নারী।”

পাঁচ সন্তান ও এক সুখের সংসার
২০২৫ সালের ১১ অগাস্ট প্রকাশ্যে এসেছিল তাঁদের বাগদানের খবর। অর্থাৎ ঠিক বিয়ের এক বছর আগে। সেই সময় জর্জিনা নিজের এনগেজমেন্ট রিংয়ের ছবি শেয়ার করে স্প্যানিশ ভাষায় লিখেছিলেন, “S, quiero. En esta y en todas mis vidas.” যার অর্থ দাঁড়ায়— “হ্যাঁ, আমি চাই। এই জীবনেও এবং আমার সমস্ত জীবনেও।”

রোনাল্ডো ও জর্জিনার সংসারে রয়েছে দুই কন্যা—আলানা ও বেলা। এছাড়াও রোনাল্ডোর বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র এবং যমজ সন্তান ইভা মারিয়া ও মাতেওকে একসঙ্গে পরম স্নেহে বড় করে তুলছেন তাঁরা। তবে ২০২২ সালে তাঁদের পরিবারে নেমে এসেছিল এক মর্মান্তিক শোক। বেলার যমজ ভাই অ্যাঞ্জেল জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যায়। সেই কঠিন দিনেও একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে ছিলেন তাঁরা।

দীর্ঘদিনের জল্পনা, বাগদান নিয়ে নানা গুঞ্জন এবং মাদেইরার ক্যাথেড্রালের বাইরে এক ভুল বিয়েকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি—সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রোনাল্ডো ও জর্জিনা একে অপরকে জীবনের চিরসাথী হিসেবে বেছে নিলেন। ফুটবল মাঠের জাদুকরের ব্যক্তিগত জীবনের এই নতুন অধ্যায়ে উচ্ছ্বসিত গোটা বিশ্বের অনুরাগীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *