আইনি ঝঞ্ঝাটে ধ্রুব রাঠী! হিন্দু দেবদেবী নিয়ে বিতর্কিত ভিডিও ভারতে নিষিদ্ধ করার কথা আদালতে স্পষ্ট জানাল গুগল

জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর একটি বিতর্কিত ভিডিও এবার ভারতে নিষিদ্ধ করা হল। হিন্দু দেবদেবীদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করার জেরে তীব্র আইনি বিতর্কের মুখে পড়েছিল এই কনটেন্ট। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে গুগল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশ মতো ভারতে ওই ভিডিওটির প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীর একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ভিডিও অবশেষে ভারতে নিষিদ্ধ করা হলো। হিন্দু দেবদেবীদের খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় বিষয়বস্তু নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশের জেরে শুরু হওয়া তীব্র আইনি লড়াইয়ে বড়সড় মোড় এল। মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আদালতের নির্দেশ অনুসারে বর্তমানে ভারতে ওই নির্দিষ্ট ভিডিওটির প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে আটকে (Withheld) দেওয়া হয়েছে।
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত যেভাবে: আইনজীবী অমিত সচদেব জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি বা অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, ‘Can Hindus eat BEEF? Kerala Story 2 Exposed’ শিরোনামে ইউটিউবে আপলোড করা ওই ভিডিওটি অত্যন্ত ‘অবমাননাকর’ এবং সাম্প্রদায়িক দিক থেকে স্পর্শকাতর। ভিডিওটিতে হিন্দু ধর্মের আরাধ্য দেবতা ভগবান রাম, শ্রীকৃষ্ণ এবং সীতাকে নিয়ে বেশ কিছু ‘মিথ্যা’, ‘বিভ্রান্তিকর’ এবং ‘উস্কানিমূলক’ দাবি করা হয়েছে, যা কোটি কোটি সনাতনী হিন্দুর ধর্মীয় ভাবাবেগে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। বাল্মীকির ‘রামায়ণে’র কিছু অংশ ভুলভাবে উদ্ধৃত করে হিন্দু দেবদেবীদের মাংস ভক্ষণের অভ্যাস ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল ওই ভিডিওতে।
আদালত ও সরকারের পদক্ষেপ: গত ১৫ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকারের ‘গ্রিভান্স অ্যাপেলেট কমিটি’ (Grievance Appellate Committee) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুগলকে ইউটিউব থেকে ওই ভিডিওটি অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছিল। এদিনের শুনানিতে গুগলের তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে শুধুমাত্র ভারতের আইনি এক্তিয়ারের কথা মাথায় রেখে দেশটির ভূখণ্ডের জন্যই ভিডিওটি নিষিদ্ধ বা উইথহোল্ড করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি বিশ্বব্যাপী বা পৃথিবীর সর্বত্র স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার আর্জি নিয়ে একটি মামলা এখনও হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা সওয়াল করেন যে, যখন নির্দিষ্টভাবে ওই ভিডিওটি নিয়ে বড় আপত্তি তোলা হয়েছে, তখন তার সম্পূর্ণ অপসারণ সব জায়গাতেই কার্যকর হওয়া উচিত। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।