তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা! হাইকোর্টের নির্দেশেই সায় শীর্ষ আদালতের

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখা সংক্রান্ত কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত কোনওরকম হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের সাফ পর্যবেক্ষণ, দৈনন্দিন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজকর্ম সচল রাখতে কলকাতা হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই যে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এই মুহূর্তে হাইকোর্টের সেই নির্দেশ বদলানোর কোনো প্রয়োজন দেখছে না সর্বোচ্চ আদালত। মামলাটি যেহেতু এখনও হাইকোর্টে বিচারাধীন, সেখানেই পুরো বিষয়ের আইনি নিষ্পত্তি হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পিবি ভারালের বেঞ্চ।

উভয় পক্ষের যুক্তি ও সওয়াল: এদিনের শুনানিতে কালীঘাট তথা তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। তাঁর মূল যুক্তি ছিল, প্রায় ১৬০ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও ব্যাঙ্কে দলের জমা রয়েছে ৪০০ কোটিরও বেশি টাকা। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কেন সম্পূর্ণ ফ্রিজ করে রাখা হবে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি জানান যে অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে মার খাচ্ছে। কর্মীদের বেতন দেওয়া থেকে শুরু করে অফিস পরিচালনার খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছে দল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ২৫০ জন কর্মীর চলতি মাসের ৫৩ লক্ষ টাকার বেশি বেতন বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি, ১৭টি অফিস পরিচালনা ও নিরাপত্তা সংস্থার পাওনা মেটাতে প্রতি মাসে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়।

অন্যদিকে, ইডির (ED) পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু পালটা যুক্তি দিয়ে জানান, দৈনন্দিন খরচ চালানোর ক্ষেত্রে তৃণমূলের আইনি কোনো বাধা নেই। হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্ট সহ মোট তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় খরচ চালানো সম্পূর্ণ সম্ভব এবং সেগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থও জমা রয়েছে।

নতুন রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতা: এই মামলার মধ্যেই দলের ‘আসল’ কর্তৃত্ব কার হাতে, তা নিয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। তাঁর আইনজীবীর দাবি, তাঁরা দলত্যাগ না করায় তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে দলের একটি নির্দিষ্ট অংশকে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। যদিও সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মূল আইনি ও আর্থিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা এখন কলকাতা হাইকোর্টেই হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *