রাজ্যে জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তর ও জমি কেনাবেচায় আসছে কড়া আইন! বাঁকুড়ার বৈঠক থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর আইন আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই জল্পনা উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনে জবরদস্তিমূলক ধর্ম পরিবর্তন ও বেআইনি জমি কেনাবেচা ঠেকাতে রাজ্য সরকার নতুন আইন আনতে চলেছে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে চর্চিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ‘Uniform Civil Code’ (UCC) চালুর বিষয়েও বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যে জোরপূর্বক বা জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তরকরণ এবং বেআইনি জমি কেনাবেচা রুখতে এবার অত্যন্ত কড়া ও যুগান্তকারী আইন আনার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় ৭টি জেলাকে নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই জল্পনা আরও জোরালো করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর স্পষ্ট বার্তা, আগামী দিনে বেআইনি ও জবরদস্তিমূলক ধর্ম পরিবর্তন এবং জঙ্গলমহল ও প্রান্তিক এলাকায় জমি কেনাবেচার অসদুপায় রুখতে নতুন আইন আনতে চলেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চর্চিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ‘Uniform Civil Code’ (UCC) চালুর সপক্ষেও জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহলে কড়া নজরদারি: সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চলে—বিশেষ করে বাঁকুড়ার মতো জঙ্গলমহল ও প্রান্তিক এলাকাগুলিতে—পরিকল্পিতভাবে ধর্মান্তকরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর দাবি, সুনির্দিষ্টভাবে বিদেশ থেকে তহবিল বা ফান্ড এনে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ উপাসনালয় গড়ে তোলা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলানোর চেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। যদিও নতুন আইনে ঠিক কী ধরনের কড়াকড়ি বা শাস্তির বিধান থাকছে, সে বিষয়ে এদিন তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এর আগেও একাধিক জনসভায় ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে কঠোর আইন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন তিনি, এদিনের বৈঠকে সেই সুরই আরও জোরালোভাবে শোনা গেল তাঁর গলায়।
পিছিয়ে থাকা ৭৬টি ব্লকের জন্য বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট: কেবল আইনি হুঙ্কার বা নীতিগত বার্তা নয়, এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের অনগ্রসর ও প্রান্তিক এলাকাগুলির সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ৭৬টি অনুন্নত ব্লককে বিশেষভাবে চিহ্নিত করে উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে:
-
৩ মাসের মাস্টারপ্ল্যান: পশ্চিমাঞ্চল এবং সুন্দরবন এলাকার সার্বিক ও দ্রুত উন্নয়নের জন্য আগামী তিন মাসের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
-
উৎসবের পরই কাজ শুরু: চলতি বছরের দুর্গাপূজার ঠিক পরপরই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে মাঠে নেমে শুরু হবে।
-
বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ: চিহ্নিত প্রতিটি অনগ্রসর গ্রামের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা করে খরচ করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
প্রধানত সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তপশিলি জাতি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর এই ব্লু-প্রিন্টে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক এই বৈঠক এবং মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক নীতিগত ও আইনি বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।