চিনের হাতের মুঠোয় আমেরিকার প্রতিরক্ষা! ভয় ধরাচ্ছে কোন ১৭টি খনিজ?

বিশ্ব রাজনীতিতে ফের বড়সড় উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘রেয়ার আর্থ’ (Rare Earth)। খনিজ উত্তোলন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ—পুরো সেক্টরে চিনের একচ্ছত্র আধিপত্য এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বেজিং কয়েকটি রেয়ার আর্থ এবং তৎসংক্রান্ত পণ্যের রফতানির উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করার পর থেকেই আমেরিকার প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ১৭টি খনিজ?
সাধারণ মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী—সবক্ষেত্রেই রেয়ার আর্থের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হল, এই ১৭টি খনিজ উপাদানের সাহায্যে তৈরি বিশেষ শক্তিশালী ম্যাগনেট ব্যবহার করা হয় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রাডার এবং সাবমেরিনের মতো সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমান সহ বহু সামরিক ব্যবস্থায় এই খনিজের উপস্থিতি অপরিহার্য।
একাধিপত্যে চিন কতটা এগিয়ে?
রেয়ার আর্থের ক্ষেত্রে কেবল খনিজ উত্তোলনেই নয়, বরং তা পরিশোধন, আলাদা করা এবং তা থেকে নিখুঁত ম্যাগনেট তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্ব বাজারে একপ্রকার একপেশে ক্ষমতা রয়েছে চিনের।
প্রক্রিয়াকরণে একশো শতাংশ দাপট: বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ রেয়ার আর্থ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র চিনের হাতেই।
আমেরিকার উচ্চ নির্ভরতা: ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আমেরিকায় যত রেয়ার আর্থ আমদানি হয়েছে, তার প্রায় ৭৫ শতাংশই এসেছে চিন থেকে।
আমেরিকার সমস্যা এবং ঘরোয়া উদ্যোগ
ক্যালিফোর্নিয়ার ‘মাউন্টেন পাস মাইন’-এর মতো খনি আমেরিকায় থাকলেও, শুধু খনিজ তুললেই কাজ শেষ হয় না। সেগুলিকে পরিশোধন করে ব্যবহারের উপযোগী করার পরিকাঠামো আমেরিকায় যথেষ্ট সীমিত। ফলে চিন রফতানি কমিয়ে দিলে আমেরিকা বড় বিপাকে পড়তে পারে।
তবে পরিস্থিতি বদলাতে বসে নেই ওয়াশিংটন। চিনের উপর এই কৌশলগত নির্ভরতা কমাতে ২০২০ সাল থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর দেশে নিজস্ব সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে ৪৩৯ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। খনি থেকে খনিজ তোলা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ম্যাগনেট তৈরি—পুরো প্রক্রিয়াটি দেশেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে আমেরিকা। বিশ্লেষকদের মতে, চিন রাতারাতি সরবরাহ বন্ধ করলেই আমেরিকার সামরিক শক্তি অচল হয়ে পড়বে না, তবে দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি তৈরি হলে নতুন অস্ত্র উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার খরচ ও সময় দুটোই মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।