‘লাভ জিহাদ’ থেকে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে নয়া আইন? পুজোর আগেই বড় ঘোষণা শুভেন্দুর!

রাজ্যে ধর্ম পরিবর্তন এবং জমি কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর আইন আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। মঙ্গলবার এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই জল্পনা উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনে জবরদস্তিমূলক ধর্ম পরিবর্তন ও বেআইনি জমি কেনাবেচা ঠেকাতে রাজ্য সরকার নতুন আইন আনতে চলেছে। পাশাপাশি, দেশজুড়ে চর্চিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ‘Uniform Civil Code’ (UCC) চালুর বিষয়েও বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চলে বিশেষ করে বাঁকুড়ার মতো এলাকায় বেআইনিভাবে ধর্ম পরিবর্তনের প্রবণতা সরকারের নজরে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিদেশ থেকে তহবিল এনে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ উপাসনাালয় গড়ে তোলা হচ্ছে এবং ধর্মীয় ভাবাবেগকে ব্যবহার করে জনবিন্যাস বদলানোর চেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তবে নতুন আইনে ঠিক কী ধরনের কড়াকড়ি থাকছে বা কী নিয়ম চালু হবে, সে বিষয়ে এদিন তিনি বিস্তারিত জানাননি। এর আগেও জনসভায় ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে আইন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন তিনি, এদিনও সেই সুরই শোনা গেল তাঁর গলায়।

পিছিয়ে থাকা ৭৬টি ব্লকের জন্য বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট
ধর্ম পরিবর্তন বা আইনি বার্তার পাশাপাশি এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের অনগ্রসর ও পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মোট ৭৬টি অনুন্নত ব্লককে চিহ্নিত করে বিশেষ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

৩ মাসের মাস্টারপ্ল্যান: পশ্চিমাঞ্চল এবং সুন্দরবন এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য আগামী তিন মাসের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

উৎসবের পরই কাজ শুরু: দুর্গাপূজার ঠিক পরপরই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ পুরোদমে শুরু হবে।

অর্থ বরাদ্দ: চিহ্নিত প্রতিটি অনগ্রসর গ্রামের উন্নয়নে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা করে খরচ করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। প্রধানত সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং তপশিলি জাতি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনিক এই বৈঠক ও মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক নীতিগত ইঙ্গিত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *