আইফোনপ্রেমীদের জন্য বড় ধাক্কা! ভারতে ২০,০০০ টাকা দাম বেড়ে আসছে iPhone 18 Pro, জেনে নিন কী কী চমক থাকছে?

প্রযুক্তিপ্রেমী এবং অ্যাপল ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই বাজারে আসতে পারে অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত iPhone 18 Pro সিরিজ। যদিও অ্যাপলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রযুক্তি মহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই বিশ্ববাসীর সামনে হাজির করা হতে পারে এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনটি। নতুন হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি এটি পরিচালিত হবে লেটেস্ট iOS 27 অপারেটিং সিস্টেম দ্বারা।

তবে সমস্ত জল্পনা ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে এর দাম।

আকাশছোঁয়া দাম হতে পারে ভারতে
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে iPhone 18 Pro-এর দাম এর পূর্বসূরী iPhone 17 Pro-এর তুলনায় প্রায় ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি হতে পারে। উল্লেখ্য, iPhone 17 Pro-এর বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম শুরু হয়েছিল ১,৩৪,৯০০ টাকা থেকে। ফলে নতুন সিরিজের প্রারম্ভিক মূল্য একলাফে ১,৫৪,৯০০ টাকা বা তারও বেশি ছুঁতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ডিভাইসটির দাম ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মূলত মেমোরি চিপের সংকট এবং উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক নজরে iPhone 18 Pro-র ফাঁস হওয়া আকর্ষণীয় ফিচারসমূহ:
শক্তিশালী A20 Pro চিপসেট: পারফরম্যান্স এবং পাওয়ার এফিড্রিয়েন্সি বহুগুণ বাড়াতে এই ফোনে ব্যবহার করা হতে পারে টিএসএমসি-র (TSMC) অত্যাধুনিক 2nm প্রসেস ভিত্তিক A20 Pro চিপ। এছাড়া গেমিং ও এআই (AI) এর মতো ভারী কাজ করার সময় ফোন ঠান্ডা রাখতে থাকছে ভ্যাপার চেম্বার থার্মাল ম্যানেজমেন্ট।

ডিএসএলআর স্টাইলের ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা: প্রধান 48 মেগাপিক্সেলের ফিউশন ক্যামেরাটিতে থাকতে পারে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি, যা লেন্সের ভেতর আলো প্রবেশ করার পরিমাণ নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। ফলে যেকোনো আলোর পরিস্থিতিতেই আরও উন্নত ছবি তুলতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

বড় ব্যাটারি ও ছোট ডায়নামিক আইল্যান্ড: দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ নিশ্চিত করতে প্রো মডেলে রাখা হচ্ছে বড় ব্যাটারি। বিশেষ করে iPhone 18 Pro Max-এর ব্যাটারি ৫,৪০০ এমএএইচ (mAh)-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ডিসপ্লের নিচে ফেস আইডি (Face ID) যন্ত্রাংশ সরিয়ে নেওয়ায় এর Dynamic Island-এর আকারও ছোট করা হচ্ছে। ফোনগুলো ৬.৩ ইঞ্চি এবং ৬.৯ ইঞ্চি ডিসপ্লে সাইজে পাওয়া যাবে।

কানেক্টিভিটিতে নতুন বিপ্লব: 5G পারফরম্যান্স এবং পাওয়ার এফিড্রিয়েন্সি আরও এক ধাপ বাড়িয়ে তুলতে এতে যুক্ত হতে পারে অ্যাপলের নিজস্ব C2 মডেম। পাশাপাশি Wi-Fi ও Bluetooth-এর উন্নতির জন্য নতুন N2 চিপ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দাম বৃদ্ধি কি আদৌ যৌক্তিক?
উৎপাদন খরচ প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার কারণে অ্যাপলের এই মূল্যবৃদ্ধি হয়তো পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়, তবে ২০,০০০ টাকার উল্লম্ফন সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ বড় একটা ধাক্কা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চড়া দাম উসুল করতে হলে অ্যাপলকে ক্যামেরা, ব্যাটারি এবং পারফরম্যান্সে সত্যিকারের যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে দেখাতে হবে, যাতে এটি কেবল একটি দামি ফোন না হয়ে একটি জেনুইন আপগ্রেড হিসেবে প্রমাণিত হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: অ্যাপল কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত এই স্পেসিফিকেশন বা দাম নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তাই কোম্পানি কর্তৃক নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্ত তথ্য কেবল প্রাক-লঞ্চ গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *