হাত বুলিয়ে দিলেই শিহরিত হয় গাছ! উত্তরপ্রদেশের জঙ্গলে খোঁজ মিলল অদ্ভুত ‘টিকলিং ট্রি’ বা ‘কাতুকুতু গাছে’র

প্রকৃতি যেন প্রতিনিয়ত তার রহস্যের ঝুলি থেকে অদ্ভুত সব চমক আমাদের সামনে এনে হাজির করে। উত্তর প্রদেশের বিখ্যাত কাতরানিয়াঘাট ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারি (Katarniaghat Wildlife Sanctuary) বরাবরই দুর্লভ বন্যপ্রাণী, গভীর অরণ্য এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে এক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে বর্তমানে এই বনের বাঘ বা লেপার্ড নয়, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক অদ্ভুত ও সংবেদনশীল গাছ। একটু হাত বুলিয়ে দিলেই যে গাছের শাখা-প্রশাখা এবং পাতাগুলো শিহরিত হয়ে কেঁপে ওঠে! স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা ভালোবেসে এই গাছের নাম দিয়েছেন ‘টিকলিং ট্রি’ (Tickling Tree) বা ‘কাতুকুতু গাছ’। কাতারানিয়াঘাটে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে এই গাছটি এখন এক অলৌকিক প্রাকৃতিক বিস্ময়।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল এই গাছের রহস্য?
বনের ঘন সবুজ পরিবেশের মাঝে প্রকৃতির নিয়মেই নিজে থেকে বেড়ে উঠেছে এই বিশালকায় গাছটি, এটি মানুষের রোপণ করা কোনো চারা নয়। বছরকয়েক আগে যখন কাতারানিয়াঘাট ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করতে শুরু করে, তখন এক পর্যটক বনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কৌতূহলবশত এই গাছটির গায়ে হাত রাখেন। আর ঠিক তখনই ঘটে এক অবিশ্বাস্য কাণ্ড! কেউ যেন আদর করে হাত বুলিয়ে দিয়েছে, এমন অনুভূতিতেই যেন কেঁপে ওঠে পুরো গাছটি। পর্যটকের হাতের ছোঁয়া লাগামাত্রই গাছের পাতাগুলো জীবন্ত হয়ে আন্দোলিত হতে শুরু করে। দেখে চমকে ওঠেন সেই ব্যক্তি। এরপর দাবানলের মতো এই খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। আজ বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি এই গাছের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন পর্যটকরা।
ঠিক কোথায় দেখা মিলবে এই রহস্যময় গাছের?
আপনি যদি কাতারানিয়াঘাট বেড়াতে যান এবং এই অদ্ভুত গাছটিকে নিজের চোখে দেখতে চান, তবে আপনাকে গভীর জঙ্গলে সাফারি গাড়ির জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না।
কাতারানিয়াঘাটের মূল পর্যটন কেন্দ্রের দিকে যাওয়ার প্রধান রাস্তা দিয়েই এর দেখা মিলবে।
স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে মাত্র ১ থেকে ২ কিলোমিটার দূরে, রাস্তার দু’ধারে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের রাবার কাটিং বা ঝোপঝাড় শুরু হওয়ার ঠিক মুখেই দাঁড়িয়ে রয়েছে এই বিশালকায় গাছটি।
স্থানীয় ড্রাইভার এবং গাইডরা নিজ থেকেই পর্যটকদের এই গাছটি দেখিয়ে দেন।
ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা
যেহেতু এই অঞ্চলটি চিতাবাঘ, হাতি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের কোলাহলপূর্ণ গভীর জঙ্গলের মূল কোরের মধ্যে অবস্থিত, তাই গাড়ি থেকে নেমে এই গাছের কাছে যাওয়ার সময় চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তাছাড়া, বর্ষার মরশুম শেষ হওয়ার পর বর্তমানে এই জঙ্গল পর্যটকদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং এখানকার পথঘাটও বেশ অসমতল। আবহাওয়া পরিষ্কার হলে আগামী নভেম্বর মাসেই ফের পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে কাতারানিয়াঘাটের এই রহস্যময় দুয়ার। প্রকৃতির এই অদ্ভুত ম্যাজিক নিজের চোখে দেখতে তাই এখন থেকেই দিন গুনছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা!