প্রাকৃতিক চাষে বিপ্লব! গুজরাটে তৈরি হচ্ছে ৪টি নতুন উৎকর্ষ কেন্দ্র, বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা

কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক চাষ বা প্রাকৃতিকভাবে ফসল ফলানোর প্রবণতা বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল গুজরাট সরকার। রাজ্যজুড়ে প্রাকৃতিক চাষের প্রসার ও প্রচলন ঘটাতে চারটি নতুন ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ (Centres of Excellence) বা উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতজির দিকনির্দেশনায় এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (CMO)-এর সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বিশেষ প্রকল্পটিতে মোট ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে গুজরাট সরকার। মূলত কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য বা বায়ো-ইনপুট সহজলভ্য করার জন্যই এই কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হচ্ছে।প্রথম পর্যায়ে কোন কোন জেলায় গড়ে উঠছে এই কেন্দ্রগুলো?প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের চারটি নির্দিষ্ট জেলায় এই উৎকর্ষ কেন্দ্রগুলি স্থাপন করা হবে:নাসারি (Navsari): বান্দা তালুকের নানি ভামতি গ্রাম।মোরবি (Morbi): হালভাদ এলাকা।ভাবনগর (Bhavnagar): সিহোর তালুকের ভালাভাদ গ্রাম।ছোট উদয়পুর (Chhota Udepur): জেটপুর পাবি তালুকের চুডেল গ্রাম।এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘গুজরাট প্রাকৃতৃক কৃষি বিকাশ বোর্ড’-এর ওপর।কী কী সুবিধা মিলবে এই কেন্দ্রগুলিতে?প্রশিক্ষণ ও মডেল ক্যাম্পাস: প্রতিটি কেন্দ্রে একসাথে প্রায় ১০০ জন কৃষককে আধুনিক ও প্রাকৃতিক চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই কেন্দ্রগুলিকে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গ ‘মডেল ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।প্রাকৃতিক সার উৎপাদন: কৃষকদের নিজে হাতে জীবাণুমুক্ত সার যেমন— জীবমৃত, ঘন জীবমৃত, বীজমৃত এবং নিমস্ত্রস্ত্র তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এমনকি এই সমস্ত জৈব উপাদান নামমাত্র মূল্যে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।মাটি ও পণ্যের মান পরীক্ষা: কৃষকরা এখানে মাটি পরীক্ষা (Soil Testing) এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্যের কোয়ালিটি চেকিংয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা পাবেন।প্র্যাকটিক্যাল ডেমোনস্ট্রেশন: পাঁচ-স্তর বিশিষ্ট প্রাকৃতিক চাষ পদ্ধতি (Five-layer natural farming model), মিশ্র চাষ (Mixed Cropping) এবং আন্তঃফসল (Intercropping) পদ্ধতির প্র্যাকটিক্যাল বা বাস্তবভিত্তিক প্রদর্শন করা হবে।সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপে একদিকে যেমন চাষের খরচ অনেকটাই কমবে, তেমনই ফলন বাড়াতে এবং উৎপাদিত ফসলের সঠিক প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *