কাপড়ের আড়ালে মহিলাদের চুমু! ভণ্ড সাধুর অদ্ভুত কীর্তিতে তোলপাড় নেটদুনিয়া, নাম দেওয়া হল ‘লিপ কিস বাবা’

মানুষ যখন জীবনে চরম বিপদ, ব্যক্তিগত জটিলতা কিংবা মানসিক অশান্তির মুখোমুখি হয়, তখন এক ফোঁটা প্রশান্তির আশায় বহু মানুষই বিভিন্ন সাধুবাবা বা তথাকথিত সিদ্ধপুরুষদের দরবারে ছুটে যান। এ দেশে এমন অলৌকিক ক্ষমতার দাবিদার বাবাজিদের অভাব নেই, আর তাঁদের অন্ধ ভক্তের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু প্রায়শই এই আধ্যাত্মিকতার আড়ালে থাকা প্রতারণা এবং বিকৃত মানসিকতার আসল মুখটি সামনে চলে আসে। ভণ্ড সাধুরা সাধকের পোশাক গায়ে চাপিয়ে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অনায়াসে প্রতারণার জাল বোনেন। আর এসব বুজরুকির সবচেয়ে বড় শিকার হন মূলত নারী ও শিশুরা। সম্প্রতি এমনই এক বিতর্কিত সাধুর অদ্ভুত ও লজ্জাজনক কীর্তিকলাপের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে, যার জেরে নেটাগরিকেরা ওই ব্যক্তির নাম দিয়েছেন ‘লিপ কিস বাবা’।
ভাইরাল ভিডিও ও নেটিজেনদের ক্ষোভ
‘রিয়্যালট্রুথডটইন’ (RealTruthDotIn) নামক একটি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা ভিডিওটি নিয়ে বর্তমানে নেটদুনিয়ায় জোর চর্চা চলছে, যদিও ভিডিওটির সত্যতা কোনও স্বতন্ত্র সংবাদমাধ্যম যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক তথাকথিত সাধু নিজের এবং তাঁর কাছে আসা মহিলা ভক্তদের মুখ একটি কাপড়ের আড়ালে ঢেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে অদ্ভুত উপায়ে ‘আশীর্বাদ’ করছেন।
দৃশ্যটি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটাগরিকদের একাংশ। অনেকেরই স্পষ্ট অভিযোগ, কাপড়ের আড়ালে আশীর্বাদের অজুহাতে আদতে ওই মহিলাদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ বা চুম্বন করছেন ওই সাধু। স্বাভাবিকভাবেই সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠেছে যে, কেবল মহিলা ভক্তদের ক্ষেত্রেই কেন এমন অদ্ভুত উপায়ে আশীর্বাদ করা হচ্ছে? কোনো পুরুষ ভক্তের ক্ষেত্রে কেন এমন দৃশ্য দেখা যায় না? যদিও ওই সাধুর অন্ধ অনুগামীদের একাংশের দাবি, এটি নাকি কোনো অন্যায় নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু আধ্যাত্মিক ধারায় প্রচলিত ‘গুরু মন্ত্র’ বা দীক্ষা দেওয়ারই একটি গোপনীয় আচার। তবে সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবীরা এই যুক্তিকে তীব্র ভাষায় খণ্ডন করেছেন।
পুরোনো স্মৃতি ও আইনি পদক্ষেপ
রোগ-ব্যাধি সারিয়ে দেওয়ার নাম করে এর আগেও মহিলাদের জোর করে চুম্বন করার অভিযোগে অসমের এক ভণ্ড সাধুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল, যার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে টাটকা। তবে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এই তথাকথিত ‘লিপ কিস বাবা’র বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না কিংবা পুলিশ-প্রশাসন এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও খবর মেলেনি। ধর্মের নামে এই ধরনের ভণ্ডামি ও অন্ধবিশ্বাস কীভাবে সমাজের ক্ষতি করছে, তা নিয়ে ফের জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে।