পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা নেই! ভারতের মোট আমদানির প্রায় অর্ধেকই এখন আসছে রাশিয়া থেকে

আমেরিকার সমস্ত চাপ ও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর হুঙ্কারকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ফের নতুন রেকর্ড গড়ল ভারত। পশ্চিমা দেশগুলির কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন সেনেটের সম্ভাব্য শুল্ক আইন প্রণয়নের তোয়াক্কা না করেই সাশ্রয়ী মূল্যের রুশ জ্বালানির ওপর নিজেদের অবিচল নির্ভরতা বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক তথ্যের বিশ্লেಷণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব বেড়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
কী বলছে ক্রিয়ার (CREA) রিপোর্ট?
‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (CREA)-এর তথ্য অনুযায়ী, রুশ জ্বালানি রফতানির ওপর কড়াকড়ি সত্ত্বেও ভারতীয় সংস্থাগুলি সস্তা তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।
-
জুন মাসে ভারত প্রায় ৪৫০ কোটি ইউরো মূল্যের রুশ অপরিশোধিত তেল কিনেছে।
-
পরিমাণগত দিক থেকে বিচার করলে, ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারত ৮.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন (MMT) রুশ তেল আমদানি করেছে, যা গত বছরের জুনের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
-
এর জেরে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে পরিমাণগত দিক থেকে রাশিয়ার অংশ দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশ এবং অর্থমূল্যের দিক থেকে তা হয়েছে ৪৮.৬ শতাংশ। বিশেষ করে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই প্রতি মাসেই রাশিয়ার তেলের এই অংশ ধারাবাহিকভালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মার্কিন সেনেটের বিল ও ভারতের কৌশল
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল করতে মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছে ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অফ 2026’। এই বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট চাইলে রুশ জ্বালানির প্রধান ক্রেতাদেশগুলির (বিশেষ করে ভারত ও চিন) ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন।
তবে এই মুহূর্তে ভারতের ওপর সরাসরি কোনও শুল্ক চাপানো হয়নি এবং এটি কেবল একটি সম্ভাব্য আইনি ক্ষমতা। বিলটিকে এখনও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে এবং প্রশাসনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা এটি কীভাবে প্রয়োগ করবে। এই ভূ-রাজনৈতিক চাপকে পাশ কাটিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই দিল্লির এই তেল আমদানির নীতি আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।