“তিলোত্তমা বিচার পাননি, ১৫ বছরের ভুল আছে— তবুও এ সব মেনে নেওয়া যায় না!” মমতার উপর হামলার তীব্র নিন্দা অগ্নিমিত্রার

হালিশহরে যাওয়ার পথে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় লক্ষ্য করে কাদা ও চটি ছোঁড়া এবং ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই ঘটনাকে বাংলার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়ে এর কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি।
অগ্নিমিত্রা পালের প্রতিক্রিয়া ও স্পষ্ট বার্তা
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিগত ১৫ বছর ধরে নানা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষা করতে পারেননি এবং সাধারণ মানুষের ওপর নানা অত্যাচার চালিয়েছেন—এই অভিযোগগুলো সত্যি। এমনকি তিলোত্তমার মৃত্যুর দিনটিতেও তিনি সঠিক বিচার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু তাই বলে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ছোঁড়া, ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া বা জুতো-চটি নিক্ষেপ করার মতো ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই ধরনের অসভ্য আচরণ বাংলার কৃষ্টি, শালীনতা ও সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিরোধী এবং রাজ্য সরকারের নীতিরও পরিপন্থী। এসব জঘন্য কর্মকাণ্ডে দল বা শীর্ষ নেতৃত্বের বিন্দুমাত্র সমর্থন নেই। উস্কানিমূলক এই সমস্ত কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “যাঁরা বিজেপির নাম ভাঙিয়ে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটাচ্ছেন এবং ভাবছেন এর মাধ্যমে জয়জয়কার হবে, তাঁরা চরম বোকার স্বর্গে বাস করছেন। এই ঘটনার পেছনে যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।”
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য
অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মুখ খুলেছেন বিরোধী শিবিরের অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ছুটির দিনে একজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে বেরিয়েছিলেন, তাও পুলিশকে না জানিয়ে। পুলিশ যেভাবে বিরাট ব্যবস্থা করেছে দেখলাম, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওনার সেই প্রোটোকল পাওয়ার কথা নয়। তা সত্ত্বেও আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর বয়সও হয়েছে, তাই তাঁকে সাধ্যমতো পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়া উচিত।”