আপনার সাধের এসি কি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে? অজান্তেই এই ভুলগুলি করছেন না তো!

তীব্র গরম থেকে বাঁচতে বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এয়ার কন্ডিশনার বা এসি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য যন্ত্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই বহুমূল্য যন্ত্রটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়শই এমন কিছু সাধারণ ভুল করে ফেলি, যার জেরে সেটি দ্রুত খারাপ হওয়ার দিকে এগিয়ে যায়। সঠিক নিয়ম ও পরিচর্যা না মানলে অকালেই বিকল হতে পারে আপনার সাধের এসি, আর সেই সঙ্গে বাড়তে পারে মেরামতির খরচও।

এসির দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে এবং ঘর ঠান্ডা রাখার সঠিক উপায়গুলি এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:

১. ১৮ ডিগ্রি বনাম ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
অনেকেরই ধারণা যে এসির তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখলে ঘর সবচেয়ে দ্রুত ঠান্ডা হয়, যা সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালালে ঘরের পরিবেশ আদর্শ ও আরামদায়ক থাকে এবং এর ফলে কম্প্রেসরের ওপর কোনো অহেতুক বাড়তি চাপ পড়ে না। এই সহজ নিয়মটি মেনে চললে ঘরের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকার পাশাপাশি আপনার ইলেকট্রিক বিলও অনেকটা কমে যাবে।

২. নিয়ম করে সার্ভিসিং না করান
গরমকাল আসার আগে অনেকেই নিয়ম করে এসির সার্ভিসিং করানোর বিষয়টি এড়িয়ে যান, যা যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। সারা বছর এসি বন্ধ থাকার ফলে এর ভেতরে প্রচুর ধুলোবালি জমে যায়, যা মেশিনের ঠান্ডা করার ক্ষমতাকে একধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দেয়। তাই গরমের মরসুম শুরু হওয়ার আগেই পেশাদার টেকনিশিয়ানের সাহায্যে সার্ভিসিং করিয়ে নেওয়া ভীষণ জরুরি।

৩. দরজা-জানলা পুরোপুরি বন্ধ না রাখা
এসি চালানোর সময় ঘরের দরজা বা জানলা সামান্য খোলা থাকলেও বাইরের প্রচণ্ড গরম হাওয়া ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। এর ফলে ঘর ঠান্ডা করতে মেশিনকে অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করতে হয় এবং কম্প্রেসরের আয়ু দ্রুত কমতে থাকে। তাই এসি অন করার আগে ঘরের চারপাশ সম্পূর্ণ সিল বা বন্ধ করা আছে কি না, তা ভালোভাবে নিশ্চিত করে নেওয়া দরকার।

৪. আউটডোর ইউনিটের প্রতি অবহেলা
সাধারণত অনেকেই ঘরের ভেতরের ইউনিটটি পরিষ্কার রাখলেও বাইরের আউটডোর ইউনিটের দিকে কদাচিৎ নজর দেন। অথচ আউটডোর ইউনিটে ধুলো, ময়লা বা জঞ্জাল জমে গেলে হাওয়া চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হয়, যার ফলে পুরো কুলিং সিস্টেমটিই ব্যাহত হয়। তাই রোদ-বৃষ্টি ও ধুলোবালি থেকে বাঁচাতে নিয়মিত বাইরের অংশটিও পরিষ্কার রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৫. একটানা দীর্ঘক্ষণ এসি চালিয়ে রাখা
একটানা দীর্ঘ সময় ধরে এসি চালিয়ে রাখা এই যন্ত্রের কর্মক্ষমতার জন্য মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। ঘর পর্যাপ্ত পরিমাণে ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ মেশিনটি বন্ধ রাখা উচিত, যাতে এর কম্প্রেসর কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পায়। এই সামান্য বিরতি এসির আয়ু বাড়াতে এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ সুরক্ষিত রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

৬. এসি ও সিলিং ফ্যানের যুগলবন্দি
অনেকেই ঘরে সিলিং ফ্যান ও এসি একসঙ্গে চালাতে পছন্দ করেন না। অথচ ফ্যান ও এসি একসঙ্গে চালালে ঘর খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়। ফ্যানের হাওয়া এসির ঠান্ডা বাতাসকে ঘরের প্রতিটি কোণায় সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে অনুঘটকের মতো কাজ করে। এতে মেশিনের ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপ কমে যায় এবং কম সময়েই বেশি আরাম পাওয়া যায়।

৭. এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার না করা
নিয়মিত এসির এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার না করলে এর ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জন্ম নিতে পারে, যা কেবল যন্ত্রের জন্যই নয়, বরং পরিবারের স্বাস্থ্যের পক্ষেও মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর ফিল্টারটি বের করে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিলে এই ধরনের সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই ছোট ছোট বিষয়গুলি মাথায় রাখলে কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই আপনার এসি দীর্ঘকাল নিখুঁত পরিষেবা দিতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *