মসজিদ থেকে মাইক খোলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মহাঞ্চল্য! কী নির্দেশ দিল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ?

রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ থেকে জোর করে মাইক বা লাউডস্পিকার খুলে নেওয়া হচ্ছে—এই গুরুতর অভিযোগ তুলে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলার আর্জি জানানো হয়েছে। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
হাইকোর্টে কী বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কার নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত মসজিদ থেকে এভাবে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে? পুলিশ কোন আইনি বলে বা লিখিত নির্দেশ ছাড়াই এই কাজ করছে? আবেদনকারী দানিশ ফারুকির পক্ষে মামলা দায়ের করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই মাইক বন্ধ করার নির্দেশ ও পদক্ষেপের প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার ১১ অগস্ট রাজাবাজার থেকে শিয়ালদা হয়ে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে আলাদাভাবে মামলা দায়ের করেছেন আবদুল সামাদ নামে এক ব্যক্তি। আজ বেলা ৩টার সময় সেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের সাফাই ও আদালতের পুরনো নির্দেশ
মসজিদের লাউডস্পিকার জোর করে খুলে ফেলার যে অভিযোগ তুলছে বিরোধী শিবির, তা ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। গত বৃহস্পতিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনাস্থলকে আলাদাভাবে নিশানা করা হয়নি। বরং কলকাতা হাইকোর্টের ২০২০ সালের নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করতেই রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই অভিযানে শুধু মসজিদ নয়, নিয়ম মেনে মন্দিরগুলি থেকেও অপ্রয়োজনীয় লাউডস্পিকার অপসারণ করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের মোট ৩৪টি পুলিশ জেলাতেই এই অভিযান চলছে। তাছাড়া এসপি (SP) বা পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই যেন সমস্ত পদক্ষেপ করা হয় এবং কোথাও যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।
সব মিলিয়ে, মাইক বা লাউডস্পিকার অপসারণের এই নির্দেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। একদিকে সরকারের আইনি যুক্তি এবং অন্যদিকে বিরোধীদের বৈষম্যের অভিযোগ—সব মিলিয়ে এই আইনি লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।