মোদীর বাসভবনে হঠাৎ হাজির শারদ পাওয়ারের সাংসদরা! বিরোধী শিবিরে ভাঙনের জল্পনার মাঝেই কোন বড় সমীকরণ?

বিরোধী শিবিরে গুঞ্জন আর জল্পনার মাঝেই রাজধানী দিল্লিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। সোমবার শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি-এসপি)-র একদল সাংসদ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দলের প্রবীণ নেত্রী তথা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি মহারাষ্ট্রের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে। তবে বিরোধী জোটের অন্দরে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে, এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে যে, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্যতম এই মিত্র দলটি সংসদে প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ বিলের (Delimitation Bill) বিষয়ে শেষ পর্যন্ত শাসকদলকে সমর্থন জানাতে পারে।
খরা পরিস্থিতি ও সেচ সমস্যা নিয়ে আলোচনা
সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও এনসিপি সাংসদদের এই বৈঠকটি প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে সাংসদরা মহারাষ্ট্রের বর্তমান খরা পরিস্থিতি এবং গুরুতর সেচ সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খরা ও জলের সমস্যা ছাড়াও মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় জনস্বার্থের নানা ইস্যুও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।
এছাড়াও, বৈঠকে এনসিপি-এসপি সাংসদদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি সংবলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই স্মারকলিপিতে সমাজ সংস্কারক মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলে, সাবিত্রীবাই ফুলে, শাহির আন্নাভাউ সাথে এবং সাধু তুকদোজি মহারাজকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’ (Bharat Ratna) দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, নভি মুম্বই বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াত ডি. ওয়াই. পাতিলের নামে নামকরণের দাবিও তোলা হয়। বৈঠক শেষে সাংসদরা এই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান।
সীমানা নির্ধারণ বিল ও এফসিআরএ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করলেন সুপ্রিয়া সুলে
বৈঠকের পর সুপ্রিয়া সুলে স্পষ্ট করে জানান যে, মহারাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক তহবিল ও অনুদান না পাওয়ার কারণে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন। যদিও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে যে এই বৈঠকে প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ বিল এবং বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল বা এফসিআরএ (FCRA) নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে বৈঠকে সুনির্দিষ্টভাবে এই বিলগুলি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তা সত্ত্বেও, এফসিআরএ বিলের বর্তমান রূপের তীব্র বিরোধিতা করবে দল।
আগামী দিনে প্রস্তাবিত সীমানা নির্ধারণ বিলের বিষয়ে এনসিপি-এসপির চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। এর আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে শরদ পাওয়ারের দল সরকারের এই প্রক্রিয়ার পাশে দাঁড়াতে পারে, যা বিরোধী জোটের বর্তমান অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করে। তবে সুপ্রিয়া সুলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দলের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে ওই আইনের সুনির্দিষ্ট খসড়া ও চূড়ান্ত রূপের ওপর।
অন্যদিকে, এফসিআরএ বিল প্রসঙ্গে সুপ্রিয়া সুলে এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে সমস্ত বিদেশি অনুদানকে সবসময় সন্দেহের চোখে দেখা উচিত নয়। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বিলটি হয় প্রত্যাহার করার অথবা বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC)-র কাছে পাঠানোর জোরালো দাবি জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে এই রাজনৈতিক চালগুলি কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।