‘বয়সে বড়, তাই পরামর্শ দেব না, অনুরোধ করব!’ মমতার হালিশহর সফর নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। রবিবার মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হালিশহরে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি, উল্টে তাঁকে ‘চোর’ স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় এবং তাঁর গাড়িতে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ সোমবার একই জায়গায় গিয়ে মৃত কর্মীর পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হালিশহর সফর ও বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি।

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শিডিউল জানিয়ে আসার অনুরোধ করব’
এদিন হালিশহরে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ও সফর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “উনি দেশের অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা অর্থাৎ ‘জেট প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা পান। আমরা সরকারে এসে সেই নিরাপত্তা তুলে দিইনি। উনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। তবে ১৬৩ ধারা জারি থাকলে অনেক সময় তা আটকানো হয়। আমার ক্ষেত্রেও ৩ মাসে বারুইপুরে ১৬৩ ধারা থাকাকালীন আমাকেও যেতে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমি বয়সে বড় কাউকে জ্ঞান দেব না, কিন্তু একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে কিছু পরামর্শ ও অনুরোধ অবশ্যই করব।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP) এবং এডিজি (ADG)-কে অনুরোধ করব, অথবা আপনার নিজের দল তো এখনও রয়েছে… আপনি যদি আগে থেকে মেল (Mail) করে আপনার কর্মসূচির শিডিউল বা সময় জানিয়ে আসেন, তবে যে জেড প্লাস প্রটেকশন আপনি পাওয়ার কথা, তা নিশ্চিতভাবেই পাবেন। কিন্তু গতকাল তো আপনি কাউকে কিছু না জানিয়েই আচমকা চলে এসেছিলেন!”

‘বিজেপির কেউ জড়িত ছিল না, ওটা ছিল জনতার স্বতঃস্ফূর্ত রোষ’
হালিশহরে মমতার গাড়ির ওপর হামলা বা বিক্ষোভের ঘটনায় বিজেপির দিকে যে অভিযোগের আঙুল তুলেছে শাসক শিবির, তা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো লোক জড়িত ছিল না, তা ছবি বা ভিডিও দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যাবে। বরং আমাদের স্থানীয় বিধায়ক খবর পাওয়ার পর ভিড় থেকে লোকজনদের সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার ব্যবস্থা করেছিলেন। গতকাল পুলিশ ফোর্স আনতে সময় লেগেছে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে সেই সুযোগই দেননি। সেখানে আদতে বড় কিছু ঘটেনি, মানুষ কেবল নিজেদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও পাথরের গল্প নিজের চোখেই দেখেছে।” বিগত রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আপনাদের আমলে ৩১৫ জন বিজেপি কর্মীকে খুন করা হয়েছে। আপনি কি কখনও বিরোধী দলের মৃত কর্মীদের কোনো পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সামান্য সহানুভূতি দেখিয়েছেন? এমন একটাও উদাহরণ দেখাতে পারবেন না।” সব মিলিয়ে, মমতার সফর ও হালিশহরের নিরাপত্তা বিতর্ক নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই তীক্ষ্ণ মন্তব্য বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *